Article By – সুনন্দা সেন

দেশের FMCG মার্কেটে এবার ১০০% লেবেল ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। আয়ুর্বেদ ও কনজিউমার হেলথ প্রোডাক্ট প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘ডাবর ইন্ডিয়া’ অভিযোগ করেছে, খাদ্যপণ্যের প্যাকেজিংয়ে ১০০% দাবি ব্যবহারের বিরুদ্ধে FSSAI (Food Safety and Standards Authority of India)-এর সাম্প্রতিক পদক্ষেপে প্রতিদ্বন্দ্বী সংস্থাগুলি সুবিধা পেতে পারে। আর এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে পণ্যের প্যাকেটে ১০০% বা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক / বিশুদ্ধতার মতো দাবি।
বর্তমানে ক্রেতারা পণ্যের গুণমান ও উপাদান সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন। যার ফলে কোনও পণ্যের গায়ে ১০০% লেখা থাকলে সেটি অনেক সময় ভোক্তার কাছে একটি বিশেষ গুণমানের সংকেত হিসেবে কাজ করে। কিন্তু এই ধরনের দাবি কতটা বৈজ্ঞআনিকভাবে (Scientifically) গ্রহণযোগ্য এবং ভোক্তাকে বিভ্রান্ত করতে পারে কিনা-সেই প্রশ্নেই নিয়ন্ত্রকদের নজর। ডাবরের বক্তব্য করতে পারে কিনা -সেই প্রশ্নেই নিয়ন্ত্রকদের নজর। ডাবরের বক্তব্য ১০০% লেবেল নিয়ে নিয়ম প্রয়োগের ক্ষেত্রে যদি নির্দিষ্ট কিছু সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়, অথচ একই ধরনের দাবি করা অন্য ব্র্যান্ডগুলিকে ছাড় দেওয়া, সেক্ষেত্রে বাজারে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।
সংস্থাটির মতে, নিয়ম যদি সবার জন্য একই হয়; সেক্ষেত্রে তা সব ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রয়োগ করা উচিত। কারণ FMCG মার্কেটে প্যাকেজিং এবং বিজ্ঞাপনের ভাষা সরাসরি ক্রেতার কেনাকাটার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। অন্যদিকে বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিকে হলে ১০০% দাবি ব্যবহার। একটি পণ্য যদি ‘১০০% ন্যাচরাল’, ১০০% জুস বা এই ধরনের দাবি করে, তাহলে সাধারণ ক্রেতা সেটিকে সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ বা অণ্য পণ্যের তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যকর বলে ধরে নিতে পারেন। তাই ফুড সেফটি নিয়ন্ত্রকের কাছে এই ধরনের দাবি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ডাবরের অভিযোগের অর্থ এই নয় যে সংস্থা ফুড সেফটি সংক্রান্ত নিয়মের বিরোধিতা করছে। বরং তাদের বক্তব্য হলো নিয়ম থাকলে সেটির প্রয়োগ ট্রান্সপারেন্ট, সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সমস্ত প্রতিযোগী সংস্থার ক্ষেত্রে সমান হওয়া দরকার। আর FMCG শিল্পে এই বিতর্কের প্রভাবও কম নয়। বড় ব্র্যান্ডগুলির জন্য প্যাকেজিংয়ের একটি শব্দও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেটি ব্র্যান্ডের অবস্থান এবং ভোক্তার অবস্থান বদলে দিতে পারে। যার ফলে ১০০% শব্দটি ব্যবহার করা যাবে কি না, কী ধরনের প্রমাণ দিতে হবে এবং কোন পরিস্থিতিতে এই দাবি বিভ্রান্তিকর হিসেবে গণ্য হবে– তা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।




