Article By – সুনন্দা সেন

ভারত সরকার ৫ লক্ষ টন (৫,০০,০০০ টন) গমের আটা রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। খাদ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গেছে, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজারে দামের স্থিতাবস্থা বজায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গম ও গমজাত পণ্যের রপ্তানির উপর নিয়ন্ত্রণ থাকার পর, সীমিত পরিসরে এই অনুমতি দেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে গমের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আটা উৎপাদনও স্থিতিশীল অবস্থায় আছে। এই পরিস্থিতিতে সীমিত পরিমাণে আটা রপ্তানির অনুমতি দিলে দেশীয় বাজারে সরবরাহ বা দামের ওপর বড় কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের বিশ্বাসযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান বজায় থাকবে। এই সিদ্ধান্তে বিশেষভাবে উপকৃত হবে প্রতিবেশী দেশ এবং খাদ্য আমদানিনির্ভর অঞ্চলগুলি। দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে ভারতীয় গমের আটার চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই বেশি। উন্নত মান, তুলনামূলক কম দাম এবং সহজ সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে ভারতীয় আটা আন্তর্জাতিক বাজারে জনপ্রিয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২২ সালের পর থেকে গম রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত অত্যন্ত সতর্ক নীতি গ্রহণ করেছে। খরা, তাপপ্রবাহ এবং বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে সরকার তখন গম ও গমজাত পণ্যের রপ্তানি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছিল। সেই নীতির মূল লক্ষ্য ছিল দেশের সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা। এবার ৫ লক্ষ টন আটা রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হলেও সরকার স্পষ্ট করেছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী ভবিষ্যতে নীতিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তে কৃষক, আটা মিল মালিক এবং রপ্তানিকারক—তিন পক্ষই লাভবান হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। রপ্তানির সুযোগ বাড়লে মিলগুলির উৎপাদন বাড়বে, ফলে কৃষকদের কাছ থেকে গম কেনার চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার আরও জানিয়েছে, রপ্তানির পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত ও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে। প্রয়োজন পড়লে দেশীয় বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্র। সব মিলিয়ে, ৫ লক্ষ টন গমের আটা রপ্তানির অনুমতি ভারতের বাণিজ্য নীতিতে এক ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ।




