Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি চলতি বছরের মে মাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ মাসিক স্তরে পৌঁছেছে। পশ্চিম এশিয়ায় ইরানকে ঘিরে সংঘাত, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও মে মাসে ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং রপ্তানি ১২.৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। যা এই খাতের ঐতিহাসিক খাতের সর্বোচ্চ মাসিক রপ্তানি আয়। আর এই রপ্তানি দেখাচ্ছে যে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ভারতের উৎপাদন ও রপ্তানি খাত আগের তুলনায় আরও স্থিতিশীল ও প্রতিযোগীতামূলক হয়ে উঠেছে।
সরকারি প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এক বছর আগের একই সময়ে ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে রপ্তানি ছিল ৯.৮৯ বিলিয়ন ডলার। ফলে এবছর মে মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৪.৪৮%। যা দেশের মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় ২৭.২%। আর তা ভারতের রপ্তানি কাঠামোতে এই ইন্ডাস্ট্রির ক্রমবর্ধামান গুরুত্বকে তুলে ধরছে। শিল্প সংস্থা EEPC ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে জাহাজ চলাচল, বীমা ব্যয় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি করছে। কিন্তু ভারতীয় রপ্তানিকারকরা বিকল্প রুট, নতুন মার্কেট এবং উন্নত লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রপ্তানি অব্যহত রাখতে সক্ষম হয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যন্ত্রপাতি, অটোমোবাইল উৎপাদন, ইলেকট্রনিক্স ইনস্ট্রুমেন্ট, ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেশিনারি এবং মেটাল প্রোডাক্টের শক্তিশালী আন্তর্জাতিক চাহিদা এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি। পাশাপাশি উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, সরকারি রপ্তানি-সহায়ক নীতি এবং বিভিন্ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সুফলও এই প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করেছে। অবশ্য বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা হলো, যদি পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেক্ষেত্রে পরিবহন ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতের রপ্তানিতে প্রভাব ফেলতে পারে।




