buzywithinfoBuzy With Info
Everything About Business
Rupee

আর্থিকভাবে স্বাধীন হতে চান? এই নিয়মগুলি মেনে চলুন।

আজকের ব্যস্ত জীবনে আমরা financial freedom বা আর্থিক স্বাধীনতা কথাটি প্রায়ই শুনে থাকি। একেকজনের কাছে আর্থিক স্বাধীনতার সংজ্ঞা একেকরকম। কেউ মনে করেন যখন যা খুশি কেনাটাই আর্থিক স্বাধীনতা। আবার অনেকের মতে ঋণমুক্ত জীবনই হল আসল আর্থিক স্বাধীনতা। আমরা আজকে আলোচনা করব আর্থিকভাবে স্বাধীন হওয়ার অর্থ কী এবং কীভাবে আপনি আর্থিক স্বাধীনতা পেতে পারেন। 

July 18 New in article ads By Sir 1

আর্থিক স্বাধীনতা কী?

আপনার জীবনের সমস্ত খরচ চালানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ অবশিষ্ট আয় থাকাকেই আর্থিক স্বাধীনতা বলে। আর্থিক স্বাধীনতা মানেই প্রচুর প্রচুর অর্থ বা ধনী হওয়া নয়। বরং আপনার সমস্ত খরচ মেটানোর জন্য যথেষ্ট অবশিষ্ট অর্থ থাকা যাতে আপনি শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের পেছনে না ছুটে নিজের মূল্যবান সময় নিজের মতো করে কাটাতে পারেন। যখন আপনি সেই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকবেন তখনই এই স্বাধীনতা পাওয়া সম্ভব হবে। তার জন্য প্রয়োজন সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা।

আর্থিক স্বাধীনতা পেতে কী করবেন?

→ আপনার বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি কেমন জানুন।  আর্থিক স্বাধীনতা পেতে অবশ্যই সবার প্রথমে আপনার সমস্ত অ্যাসেট, লায়াবিলিটি, খরচ, আয়ের উৎস ইত্যাদি লিখে রাখুন। আপনি আর্থিকভাবে কোন অবস্থায় দাঁড়িয়ে সেটি প্রথমে জেনে নিলে ফিনান্সিয়াল ফ্রিডম পাওয়ার পথটা সহজ হবে। 

→ নিজের আর্থিক লক্ষ্য স্থির করুন।  আপনার আর্থিক লক্ষ্য কী এবং সেই লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য পূরণে ঠিক কত পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন সেটি বিবেচনা করুন। আপনার লক্ষ্য যত স্পষ্ট হবে তত সহজে আপনি সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবেন। আর্থিক স্বাধীনতা পেতে এই লক্ষ্যগুলির উপর নজর রাখুন। 

  • আপনার দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ চালাতে কত অর্থের প্রয়োজন সেটি দেখুন। যেমন ধরুন আপনি ঠিক করলেন প্রতি মাসের জীবনযাত্রার জন্য আপনার অন্তত ৫০ হাজার টাকা প্রয়োজন। 
  • এবার দেখুন সেইরকম জীবন কাটাতে আপনার savings বা investment কত থাকতে হবে। 
  • কোন বয়সে এসে আপনি আর্থিক স্বাধীনতা পেতে চান। 

বিনিয়োগ শুরু করুন এবং লক্ষ্য অনুযায়ী বিনিয়োগ করুন। বয়স কম থাকতেই বিনিয়োগ শুরু করুন এবং কম্পাউন্ডিং-এর সুবিধা পেতে নিয়মিত বিনিয়োগ করুন। এছাড়াও লক্ষ্য অনুযায়ী বিনিয়োগ করা দরকার যাতে কোন বিনিয়োগের জন্য আপনি কতটা অর্থ দেবেন সেই সম্পর্কে বোঝা যায়। এর ফলে অপ্রয়োজনীয় আর্থিক দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত হওয়া যায় এবং পাশাপাশি বিনিয়োগ থেকেও যথেষ্ট ভালো রিটার্ন পাওয়া যায়। 

ধরুন ২৫ বছর বয়সি এক ব্যক্তি যিনি বর্তমানে কর্পোরেটে কর্মরত ৪৫ বছর বয়সে অবসর নিয়ে নিজের পছন্দমতো কাজ ফটোগ্রাফি করতে চান। তার আগে তিনি আর্থিকভাবে কতটা প্রস্তুত সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ধরা যাক, ৪৫ বছর বয়সে রিটায়ার করলে তাঁর বাকি জীবন কাটাতে ১ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। তাহলে এইবার তাঁকে দেখতে হবে সেই টাকা সঞ্চয় করতে তার প্রতি মাসে কত টাকা করে invest করতে হবে। আমরা গড় বার্ষিক রিটার্ন 12% ধরে নিচ্ছি।

বিনিয়োগ শুরু করেছেন ২৫ বছরে ৩০ বছরে ৩৫ বছরে
প্রতি মাসের SIP১০৫০০/-২০,০০০/-৪৫,০০০/-

অর্থাৎ দেখুন,আপনি যদি তাড়াতাড়ি বিনিয়োগ শুরু করেন তাহলে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছতে গেলে অল্প অর্থ দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করলেই হবে। 

→ ঋণমুক্ত হওয়া প্রয়োজন।  আর্থিক স্বাধীনতার ক্ষেত্রে সবথেকে বড় বাধা হল ঋণ। এবং সবচেয়ে ক্ষতিকর হল ক্রেডিট কার্ড ঋণ, যেখানে আপনাকে 45% পর্যন্ত interest দিতে হতে পারে। ফলে আপনার বর্তমানের ঋণ মেটাতে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার একেবারেই করবেন না। যদিও গৃহ ঋণ বা শিক্ষা ঋণ নিলে করের কিছু সুবিধে পাওয়া যায়, এবং এই ধরনের ঋণকে কুঋণ বলা যায় না। তবে ঋণ মুক্ত থাকলে আর্থিকভাবে অনেক দুশ্চিন্তা কমে। সেই কারণে আপনি যদি ঋণগ্রস্থ হয়ে থাকেন তাহলে যখনই হাতে থোক অর্থ থাকবে, সেসময়ই ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে সেই অর্থ ব্যবহার করুন। এবং পরবর্তীতে চেষ্টা করুন সম্পূর্ণ ঋণমুক্ত থাকতে।

→ জীবনের অনিশ্চয়তার জন্য প্রস্তুত থাকুন। এমারজেন্সি ফান্ড তৈরি রাখুন, যাতে জরুরি কোনো খরচ মেটানো সম্ভব হয়। ৬ মাসের খরচ এমারজেন্সি ফান্ড হিসেবে সরিয়ে রাখুন। এবং অবশ্যই জীবনবিমা ও স্বাস্থ্যবিমা করিয়ে রাখা দরকার, কারণ স্বাস্থ্য বা জীবন সংক্রান্ত যে-কোনো জরুরি পরিস্থিতির ক্ষেত্রে যদি আপনি প্রস্তুত না থাকেন তাহলে আপনার কষ্টার্জিত অর্থ জলের মতো বেরিয়ে যাবে। সেই জন্য অবশ্যই দেখবেন ইনভেস্টমেন্টের অর্থ যেন মেডিক্যাল বিল পেমেন্ট, ওষুধপত্র ইত্যাদির জন্য না খরচ হয়।

→ এবং সবশেষে বলব সাধারণ জীবনযাপন করুন। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত খরচ আপনার ইনভেস্টমেন্টের পরিমাণ কমিয়ে দেবে। আপনাকে জানতে হবে কোনটুকু আপনার প্রয়োজন এবং কোনটা আপনার চাহিদা। এই দুইয়ের মাঝে সামান্য বোঝাপড়া করে নিলেই আর্থিক পরিস্থিতি ভালো করা সম্ভব। বুঝে খরচ করলে দুটি সুবিধে পাওয়া যায়। এক, আপনি আর্থিক স্বাধীনতার জন্য বেশি অর্থ সঞ্চয়ের সুযোগ পাবেন এবং দুই, আপনি তাড়াতাড়ি আর্থিকভাবে স্বাধীন হতে পারবেন।

সুতরাং প্রতিদিন জীবনে ছোটো ছোটো নিয়মে কিছু পরিবর্তন এনে ফিনান্সিয়াল ফ্রিডম পাওয়া সম্ভব। 

BWI 600 x 200

Leave a Reply

Discover more from Buzy With Info

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading