Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের ফোল্ডেবল স্মার্টফোন বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। এতদিন এই সেগেমেন্ট স্যামসাংয়ের প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন বাজারে আসার সম্ভবনাকে ঘিরে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে চলেছে। কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষে ভারতে ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের মোট শিপমেন্ট ৬.৫ লক্ষ ইউনিট ছাড়িয়ে যাবে। ২০১৯ সালে এই ক্যাটাগরির যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে চলতি বছরের শেষে মোট বিক্রি ৩০ লক্ষ ইউনিট অতিক্রম করবে বলেও অনুমাণ করা হচ্ছে।
আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, যেখানে সামগ্রিক স্মার্টফোন বাজারে ১৩% থেকে ১৪% পর্যন্ত সংকোচনের আশঙ্কা রয়েছে। সেখানে ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের বিক্রি প্রায় ৮% বাড়তে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাপলের প্রবেশ শুধু একটি নতুন ফোনের লঞ্চ নয়, বরং এটি ভারতের প্রিমিয়াম স্মার্টফোন বাজারের চিত্রই বদলে দিতে পারে। এছাড়া বর্তমানে একটি ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের গড় দাম প্রায় ১,৮০০ মার্কিন ডলার, যা সাধারণ স্মার্টফোনের তুলনায় প্রায় পাঁচগুণ বেশি। ফলে এই সেগমেন্ট এখনও মূলত প্রিমিয়াম গ্রাহকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
বর্তমানে ভারতের ফোল্ডেবল বাজার স্যামসাংয়ের আধিপত্য প্রায় ৮৯%। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মোটোরোলা, যার বাজার শেয়ার প্রায় ৮%। অ্যাপলের ফোল্ডেবল আইফোন বছরের শেষের দিকে বাজারে আসবে বলে ২০২৬ সালে এর বাজার শেয়ার ১%-এরও কম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপলের শক্তিশালী ব্র্যান্ড ভ্যালু ও প্রিমিয়াম গ্রাহকভিত্তি আগামী কয়েক বছরে এই বাজারে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, EMI (Equated Monthly Installments), উন্নত প্রযুক্তি এবং নতুন মডেলের আগমনের ফলে আগামী দিন ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে। অন্যদিকে সম্ভাব্য প্রতিযোগিতার কথা মাথায় রেখে স্যামসাং ইতিমধ্যেই Galaxy Z Fold 8, Fold 8 Ultra এবং Flip 8 লঞ্চ করেছে। তবে মেমোরি চিপের দাম বৃদ্ধি ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নতুন মডেলগুলির দামও বাড়ানো হয়েছে। সাথে কোম্পানির আশা, নতুন ডিজাইন, উন্নত AI ফিচার এবং আরও বড় ডিসপ্লে প্রিমিয়াম ক্রেতাদের আকৃষ্ট করবে।




