Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা (India’s Foreign Exchange) বাজারে গত কয়েক মাসে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার প্রবাহ এসেছে। এই অর্থের বড় অংশ এসেছে FCNR(B) বা ফরেন কারেন্সি নন-রেসিডেন্ট (ব্যাংক) আমানত, বিদেশী ঋণ সংগ্রহ এবং RBI-এর বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা উদ্যোগের মাধ্যমে। সাধারণ ভাবে এত বড় ডলার প্রবাহ রুপিকে শক্তিশালী করার কথা। কিন্তু বাস্তবে রুপির বিনিময় হার এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়নি। আর এর প্রধান কারণ হলো, ভারতের ওপর একসঙ্গে একাধিক বৈশ্বিক চাপের কাজ। আর সেগুলি হল–
- প্রথমত, অপরিশোধিত তেলের উচ্চ মূল্যের ভারতের আমদানি বিল বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে তেলের জন্য বিপুল পরিমাণ ডলার খরচ হচ্ছে।
- দ্বিতীয়, আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলার এখনও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
- তৃতীয়ত, বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগ বা FPI-এর ওঠানামা এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাও রুপির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এছাড়া, RBI অতিরিক্ত ডলার বাজারে বিক্রি না করে তার একটি বড় অংশ ফরেক্স রিজার্ভ বাড়াতে ব্যবহার করছে। অর্থাৎ বাজারে ডলারের সরবরাহ পুরোপুরি বাড়ানো হচ্ছে না, যাতে ভবিষ্যতের বৈশ্বিক ধাক্কা সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত রিজার্ভ বজায় থাকে। ফলে ডলার প্রবাহ থাকলেও রুপির ওপর তার ইতিবাচক প্রভাব সীমিত থাকছে। অন্যদিকে এই পরিস্থিতি দেখায় যে শুধুমাত্র বিদেশী মুদ্রার প্রবাহ বাড়লেই রুপি শক্তিশালী হয় না; কারণ বৈশ্বিক তেলের দাম, ডলারের পাওয়ার, আমদানি -রপ্তানির ভারসাম্য এবং RBI-এর নীতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ইতিবাচক দিক হলো, অতিরিক্ত ৩২ বিলিয়ন ডলারের প্রবাহ ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করছে, যা ভবিষ্যতে বাজারের অস্থিরতা মোকাবিল (Dealing with instability), বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখা এবং অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




