Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্ববাজারে দুই মাসেরও বেশি সময়ের সর্বোচ্চ স্তরে ওঠার পর আজ (১৩ আগস্ট) সোনার দামে সামান্য পতন দেখা গেল। বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির পরবর্তী তথ্য, বিশেষ করে PPI (Producer Price Index) এবং তার প্রভাব ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নীতির উপর কতটা পড়বে সেদিকেই নজর রাখছেন। স্পট গোল্ড প্রায় ০.৫% কমে প্রতি আউন্সে ৪,৩৮৩.৫৩ ডলার হয়েছে। মার্কিন গোল্ড ফিউচারও প্রায় ০.৬% নেমে ৪,৪৪০.৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে আগস্টে এখনও সোনার দাম ৮%-এর বেশি বেড়েছে।
সোনার সাম্প্রতিক উত্থানের অন্যতম কারণ মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির তুলনামূলক নরম পরিসংখ্যান। জুলাইয়ে মার্কিন CPI (Consumer Price Index) বার্ষিক ভিত্তিতে ৩.৪% বেড়েছে, যা জুনের ৩.৫%-এর তুলনায় কিছুটা কম এবং বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর ফলে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে ব্যবসায়ীদের আশঙ্কাও কমেছে। সুদের হার কমার সম্ভাবনা বাড়লে সাধারণত সোনার মতো এমন সম্পদের আকর্ষণ বাড়ে, যেখান থেকে নিয়মিত সুদ পাওয়া যায় না। কারণ কম সুদের পরিবেশে সোনা ধরে রাখার সুযোগ-খরচ কমে যায়।
তবে বাজার এখনই নতুন করে বড় দিক নির্ধারণ করছে না। দুই মাসের উচ্চতা ছোঁয়ার পর বিনিয়োগকারীরা কিছুটা মুনাফা তুলে নিচ্ছেন এবং পরবর্তী মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাও সোনার নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে চাহিদাকে সমর্থন করছে। তাই আগামী দিনে সোনার দামের জন্য মূল প্রশ্ন হবে—মার্কিন মুদ্রাস্ফীতি আরও কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না এবং ফেডের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কতটা জোরালো হচ্ছে? আর PPI- এর তথ্য যদি মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমার আরও প্রমাণ দেয়, তাহলে সোনার দামে ফের ঊর্ধ্বমুখী গতি দেখা যেতে পারে।




