Article By – সুনন্দা সেন

আন্তর্জাতিক পণ্যের বাজারে নতুন করে নজর কেড়েছে সোনার দাম। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ কমেছে—আর তারই প্রভাব পড়েছে সোনার বাজারে। ফলে বিনিয়োগকারীরা আবার সোনার দিকে ঝুঁকছেন, যার ফলে দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে প্রায় ১% পর্যন্ত বৃদ্ধি দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল তেলের দামের পতন এবং মার্কিন ডলারের দুর্বলতা।
প্রথমেই আসা যাক তেলের প্রসঙ্গে। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সম্প্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। তেলের দাম কমে যাওয়া মানেই পরিবহন খরচ এবং উৎপাদন ব্যয় কমে যাওয়া, যার ফলে সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতির চাপও কমে। এই পরিস্থিতিতে বাজারে এক ধরনের স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিলছে। তবে এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, সাধারণত মূল্যস্ফীতি বাড়লে সোনার চাহিদা বাড়ে। কারণ তখন সোনা একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। যদিও তেলের দাম কমেছে, তবুও বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে সোনায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।
এবার আসা যাক ডলারের প্রসঙ্গে। মার্কিন ডলার দুর্বল হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। কারণ ডলার দুর্বল হলে অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের কাছে সোনা তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে ওঠে। এর ফলে চাহিদা বৃদ্ধি পায় এবং দাম বাড়ে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও এই বাজারে বড় ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, পুরোপুরি স্থিতিশীলতা ফেরেনি। ফলে বিনিয়োগকারীরা এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
অবশ্য শুধু সোনা নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রুপোর দাম বেড়েছে, প্লাটিনামেও সামান্য উত্থান লক্ষ্য করা গেছে, তবে প্যালাডিয়ামের ক্ষেত্রে কিছুটা পতন হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে সোনার দাম অনেকটাই নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর। যদি তেলের দাম আরও কমে এবং ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাস পায়, তাহলে সোনার দাম কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। তবে যদি আবার উত্তেজনা বাড়ে বা ডলার আরও দুর্বল হয়, তাহলে সোনার দাম আরও বাড়তে পারে।




