Article By – সুনন্দা সেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল ভোক্তা ব্যয়ের তথ্য প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার কমার সম্ভাবনা জোরদার হয়েছে। আর সেই প্রত্যাশাতেই এক লাফে বেড়েছে সোনা ও রুপোর দাম। দেশীয় বাজারে রুপোর দাম কেজিপিছু প্রায় ৭,০০০ টাকা এবং সোনার দাম ১০ গ্রামে প্রায় ১,৬০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন অর্থনীতির গতি কিছুটা শ্লথ হওয়ার ইঙ্গিত মিলতেই ফেডারেল রিজার্ভ আগামী মাসগুলিতে সুদের হার কমাতে পারে— এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
সুদের হার কমলে সাধারণত মার্কিন ডলার দুর্বল হয় এবং বন্ডের ইয়েল্ড কমে। ফলে সোনা ও রুপোর মতো সুদবিহীন নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ বাড়ে। রুপোর ক্ষেত্রেও চাহিদা বেড়েছে, তবে তার চরিত্র কিছুটা ভিন্ন। সোনার পাশাপাশি রুপোর শিল্পক্ষেত্রে ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে, বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স, সৌরশক্তি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পে। ফলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা থাকলেও রুপোর দাম বাড়তে পারে। তবে রুপোর দামে ওঠানামা তুলনামূলক বেশি, তাই এতে ঝুঁকিও বেশি।
আগামী দিনে মার্কিন মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান এবং ফেডের নীতিগত মন্তব্য বাজারের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। যদি আরও দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্য সামনে আসে, তাহলে সুদের হার কমার সম্ভাবনা বাড়বে এবং সোনা–রুপোর দামে আরও উত্থান দেখা যেতে পারে। তবে সাম্প্রতিক বড় উত্থানের পর স্বল্পমেয়াদে মুনাফা তোলার প্রবণতায় কিছুটা সংশোধনও হতে পারে। বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে সোনা পোর্টফোলিওর একটি ভারসাম্য রক্ষাকারী সম্পদ হিসেবে কাজ করতে পারে। ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করলে দামের ওঠানামার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। রুপোয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উচ্চ রিটার্নের সম্ভাবনা থাকলেও ঝুঁকি সহ্য করার ক্ষমতা বিবেচনায় রাখা জরুরি।




