Article By – সুনন্দা সেন

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পরেও ২০২৪ সালে ভারতের ডাল আমদানি আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বেড়ে, তা সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন যে চাহিদা সরবরাহের ব্যবধান পূরণের জন্য আমদানি অনেক বেশি ছিল। কারণ সরকার খুচরা মূল্যস্ফীতি (retail inflation) নিয়ন্ত্রণের জন্য হলুদ মটর দিয়ে বাজার ভরে দিতে চেয়েছিল। তবে শিল্পটি বা ইন্ডাস্ট্রিটি এখন ২০২৫ সালে আমদানি কমাতে নিয়ন্ত্রণ ও শুল্ক আরোপের অনুরোধ করছে। ভারত ২০২৪ সালের মে মাসে ছোলার আমদানিতে শুল্ক প্রত্যাহার করে। যার পরে হলুদ ছোলার আমদানি ২০২৩ সালের তুলনায় চারগুণ বেড়ে ২০২৪ সালে ৫৭৪,০০০ টনে পৌঁছেছে।
২০২৪ সালে ভারত ৩৬.৬৩ মিলিয়ন টন ডাল আমদানি করেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। যেখানে ২০২৩ সালে এটি ছিল ৩.৩১ মিলিয়ন টন। আমদানির পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ রেকর্ড ২০১৭ সালের ৬.২৭ মিলিয়ন টন ছিল। ২০২৩ সালে আমদানিকৃত হলুদ মটরের শুল্কমুক্ত করা হয়েছিল। যার পর ডালের আমদানি সবচেয়ে বেশি বেড়ে ২.৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। যা মোট ডাল আমদানির ৪৫%। যেখানে আগের বছর ভারত কোনও হলুদ মটর আমদানি করেনি। ২০২১ এবং ২০২২ সালে যথাক্রমে মসুর ডাল আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছিল। যারপরে গত বছর মসুর ডাল আমদানি ৫৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে উড়াদ এবং অড়হর ডাল আমদানি ২৮% করে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাণিজ্য তথ্য অনুসারে, শুধু হলুদ ছোলা নয় ডাল আমদানিতেও লম্বা লাফ দেখেছে দেশে। পণ্য বিশ্লেষক রাহুল চৌহান বলেন, আমদানি করা ডালের পরিমাণ ভারতের চার মাসের ডাল ব্যবহারের সমান। যে কারণে ইন্ডাস্ট্রিটি সরকারকে ডালের আমদানি নিয়ন্ত্রণের জন্য অনুরোধ করেছে। ইন্ডিয়ান ডালস অ্যান্ড গ্রেইনস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিমল কোঠারি বলেছেন, ভারতে হলুদ মটরশুটির সস্তা দামে ডাম্পিং বন্ধ করা প্রয়োজন। অতিরিক্ত আমদানির কারণে, প্রোটিন সমৃদ্ধ হলুদ মটর বা মটরশুঁটি গমের চেয়ে সস্তা হয়ে গেছে। আবার সরকারি সূত্র বলছে, উচ্চ মূল্য নিয়ন্ত্রণের জন্য ডাল আমদানি করা দরকারি ছিল।




