Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের বাণিজ্য ক্ষেত্রে মে মাসে কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে। দেশের রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বা ট্রেড ডেফিসিট আগের মাসের তুলনায় কমেছে। একই সঙ্গে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা এখন বিনিয়োগকারী ও শিল্পমহলের প্রধান নজরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। অবশ্য বানিজ্য ঘাটতি কমার বিষয়টি অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে আনলেও, তা তেলের দাম এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আগামী মাসগুলিতে বড় নির্ধারক হয়ে থাকবে।
জানা যাচ্ছে যে মে মাসে ভারতের পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স এবং কিছু কৃষিজাত পণ্যের উপর বিদেশী চাহিদা বৃদ্ধির ফলে। অন্যদিকে আমদানি বৃদ্ধির গতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকায় দেশের বাণিজ্য ঘাটতি সংকুচিত হয়েছে। আর এটি ভারতের জন্য ইতিবাচক। কারণ এর ফলে বৈদেশীক মুদ্রার ওপর চাপ কিছুটা কমবে এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি (Current Account Deficit) নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুবিধা হয়। পাশাপাশি রুপির স্থিতিশীলতাও বজায় রাখতে এটি সহায়তা করতে পারে।
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক বা কমফোর্টিং নয়। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনা ও তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা ভারতের আমদনির বিল বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ ভারত তার প্রয়োজনীয় জ্বালানির চাহিদার বড় অংশ আমদানি মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে ভবিষ্যতে বাণিজ্য ঘাটতির ওপর আবার চাপ তৈরি হতে পারে।
এদিকে বাজারের আরেকটি বড় ফোকাস হলো ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য আলোচনা। দুই দেশই শুল্ক কমানো, বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। যদি একটি সীমিত বাণিজ্য চুক্তি বা বৃহত্তর সমঝোতা এগিয়ে যায়, তাহলে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য মার্কিন বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি গন্তব্য হওয়ায় এই আলোচনার ইতিবাচক ফলাফল ভারতের উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।




