Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম বা WEF (World Economic Forum)-এর প্রধান অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিভঙ্গি (Chief Economists’ Outlook) অনুযায়ী, সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত অঞ্চলগুলোর মধ্যে ভারতের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস (growth outlook) সবচেয়ে শক্তিশালী এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অর্থনীতি প্রায় ৬.৭% বাড়তে পারে। যার পেছনে দেশের শক্তিশালী ডোমেস্টিক ডিমান্ড বা অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
WEF-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে ভারতকে এমন একটি অর্থনীতি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে বিশ্বব্যাপী চাপের মধ্যেও ভোগব্যয় ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারে। পাশাপাশি ভারতকে বহুজাতিক সংস্থাগুলির জন্য আকর্ষণীয় ব্যাবসায়িক স্থান (business location) হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে সামনে ঝুঁকিও রয়েছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দাম, বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত ভারতের মূল্যস্ফীতি ও ব্যবসার খরচ বাড়াতে পারে। IMF-এর জুলাইয়ের পূর্বাভাসেও উচ্চ শক্তির মূল্য (energy prices)-কে ভারতের বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ চাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
ব্যবসায়িক দিক থেকে মূল বার্তা হল, WEF-এর ৬.৭% বৃদ্ধির পূর্বাভাস ভারতের শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও ব্যবসায়িক কার্যকলাপের জন্য ইতিবাচক সংকেত। অর্থনীতির এই গতি বজায় থাকলে উৎপাদন, রিটেল, আর্থিক পরিষেবা, পরিকাঠামো ও বিনিয়োগের মতো ক্ষেত্রে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হতে পারে এবং ভারত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও আকর্ষণীয় বাজার হিসেবে থাকতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দাম, মূল্যস্ফীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ব্যবসার খরচ ও বৃদ্ধির গতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হয়ে থাকবে।




