Article By – সুনন্দা সেন

ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট বা FTA অবশেষে চূড়ান্ত হয়েছে। এই চুক্তিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের আশা, এই FTA কার্যকর হলে আগামী কয়েক বছরে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
এই চুক্তির আওতায় একে অপরের পণ্যের উপর শুল্ক কমানো বা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি হয়েছে। এর ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা নিউজিল্যান্ডের বাজারে আরও সহজে প্রবেশের সুযোগ পাবেন।
বিশেষ করে ফার্মাসিউটিক্যালস, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, আইটি পরিষেবা এবং পেশাদারি পরিষেবা খাত এই চুক্তি থেকে বড় সুবিধা পেতে পারে। অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের কৃষিজ পণ্য, দুগ্ধজাত দ্রব্য এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের পণ্য ভারতের বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক দামে আসতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি ভারতের জন্য কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে ভারত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজের বাণিজ্যিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে পারবে এবং রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্য বাড়বে। একই সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের মতো উন্নত অর্থনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভারতের দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক বলে ধরা হচ্ছে।
শিল্প মহল ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। তাদের মতে, FTA কার্যকর হলে বাণিজ্য বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল আরও মজবুত হবে। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলির জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের পথ আরও সহজ হতে পারে। এছাড়া ভারত–নিউজিল্যান্ড ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট শুধু দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে। এখন নজর থাকবে, এই চুক্তি কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং বাস্তবে কতটা সুফল নিয়ে আসে।




