Article By – সুনন্দা সেন

আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পদক্ষেপ অবলম্বনে ভারত ও নিউজিল্যান্ড (New Zealand)-এর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা FTA স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। আর এই চুক্তিকে বাণিজ্যিক মন্ত্রী পিয়ূষ গোয়েল, ‘এক প্রজন্মে একবার (Once in a generation)’-এর মতো বড় সুযোগ বলে উল্লেখ করেছেন। সাথে মনে করা হচ্ছে, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বানিজ্য, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের নতুন পথ খুলে যাবে। চুক্তি অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ড ভারতীয় পণ্যের জন্য প্রায় ১০০% শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেবে। ফলে ভারতের টেক্সটাইল, চামড়া, গয়না, ওষুধ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, ভারতও নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৯৫% পণ্যের উপর শুল্ক কমাবে বা প্রত্যাহার করবে। এর ফলে নিউজিল্যান্ডের কৃষিজ পণ্য, উল, কাঠ এবং পানীয় দ্রব্য ভারতের বাজারে আরও সহজে প্রবেশ করতে পারবে। পাশাপাশি এই চুক্তির মাধ্যমে বড় বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে নিউজিল্যান্ড থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। চাকরির ক্ষেত্রেও বড় সুবিধা মিলবে। প্রতি বছর প্রায় ৫,০০০ ভারতীয় পেশাদার নিউজিল্যান্ডে কাজের সুযোগ পেতে পারেন। পাশাপাশি যুবকদের জন্য বিশেষ “ওয়ার্ক অ্যান্ড হলিডে” ভিসা চালু হতে পারে।
ভারতের ক্ষেত্রে টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, IT এবং জেমস-জুয়েলারি খাত সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। কারণ এই খাতগুলির পণ্যের উপর শুল্ক শূন্য হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের জন্য কৃষি ও খাদ্যপণ্য খাত বড় সুযোগ পাবে। বিশেষ করে আপেল, কিউই, মাংস এবং ওয়াইন ভারতের বাজারে সহজে পৌঁছাবে। এই চুক্তির কৌশলগত গুরুত্বও অনেক। ভারত ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে একাধিক বাণিজ্য চুক্তি করছে।
এই FTA সেই ধারাকেই আরও শক্তিশালী করবে এবং Indo-Pacific অঞ্চলে ভারতের প্রভাব বাড়াবে। তবে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের দুগ্ধ শিল্পকে রক্ষা করতে সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, যাতে সস্তা আমদানির ফলে দেশীয় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হন।




