Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন (Nirmala Sitharaman) বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে আরও বড় নীতিগত সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, উচ্চ সুদের হার এবং ভূ-রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও ভারতকে আরও আকর্ষনীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। এছাড়া এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। আর এর ফলে দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি আরও শক্তিশালী হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদেশী পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট (FPI) এবং বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (FDI) সহজ করতে নিয়মকানুন আরও শিথিল করা হতে পারে। এছাড়া কর কাঠামোকে আরও স্বচ্ছ ও পুর্বানুমানযোগ্য করার পাশাপাশি বিনিয়োগ অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। শিল্প, উৎপাদন, অবকাঠামো, গ্রিণ এনার্জি ও প্রযুক্তি খাতে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সাথে প্রশাসনিক জটিলতা কমিয়ে ব্যবসা করার পরিবেশ আরও সহজ করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতি বেশ অনিশ্চিত অবস্থার মধ্যে রয়েছে। অনেক উন্নত দেশে সুদের হার বেশি থাকায় বিনিয়োগকারীরা সতর্কার সাথে বিনিয়োগ করছে। ফলে অনেক উন্নয়নশীল দেশে বিদেশী পুঁজির প্রবাহ কমে গেছে। অবশ্য এই পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য বিদেশী বিনিয়োগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং শিল্প বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। আর বিদেশী বিনিয়োগ বাড়লে দেশের বাজারে টাকার সরবরাহ বাড়ে। যা অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে।
এছাড়া, ভারতের রুপি বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে চাপের মুখে থাকে, বিশেষ করে তেলের দাম বাড়লে বা বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা তৈরি হলে। বিদেশি বিনিয়োগ বেশি এলে রুপির ওপর সেই চাপ কিছুটা কমে এবং মুদ্রা আরও স্থিতিশীল থাকে। শেয়ারবাজারেও বিদেশি বিনিয়োগ বড় ভূমিকা রাখে। বেশি বিদেশি টাকা এলে বাজারে তারল্য বাড়ে, ফলে স্টক মার্কেট শক্তিশালী হয় এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে।




