Article By – সুনন্দা সেন

এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে ভারত একটি আমদানি নির্ভর মোবাইলের বাজার থেকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোনের রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। দেশটি ২০২৪ সালে ২০.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মোবাইল রপ্তানি করেছে। এই পরিবর্তন সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বা CDS তার নতুন রিসার্চে অনুশীলন করার সাথে তুলে ধরেছে। সাথে জানিয়ে কীভাবে নিরিক্ষণ এবং নীতিগত মূল্যবোধ ভারতকে এক নতুন পথ খুলতে সাহায্য করেছে। CDS – এর পরিচালক এবং RBI চেয়ার প্রফেসার সি. বীরামনির নেতৃত্বে এই রিসার্চটি ২০১৭ সালের দিকে শুরু হওয়া ভারতের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিকেও প্রকাশ করে। আর এও জানা যায় যে রপ্তানি বৃদ্ধি পেছনে আর একটি বড় অবদান রয়েছে সরকার দ্বারা চালু করা প্রোডাক্ট লিংকড ইনসেনটিভ বা PLI স্কিম।
রপ্তানি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ভারত, দেশের অভ্যন্তরে অন্যান্য অর্থনৈতিক দিক থেকে উন্নত এশিয়ান দেশের তুলনায় তার উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়েছে। সাথে দেশটি তার ইলেকট্রনিক সেক্টরের ক্ষমতাও উন্নত করেছে। এর আগে ২০১৪-১৫ সালে ভারত অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে মোবাইল ফোন আমদানির উপর অত্যাধিক নির্ভরশীল ছিল। যেখানে দ্রুত পরিবর্তনের সাথে দেশটি ২০২৪-২৫ সালে ২৪.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি রেকর্ড করেছে। যা ২০১৭-১৮ সালের মাত্র ০.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ১১,৯৫০% বেশি। আর এর পেছনে রয়েছে উৎপাদন বৃদ্ধি। প্রতিবেদনে ভারতের উৎপাদন প্রকৃতিকে একটি ‘কাঠামোগত পরিবর্তন’ বলেও অভিহিত করা হয়েছে। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে ছাড়িয়েছে রপ্তানি, যা উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে এক বিরল বিষয়।
CDS-এর রিসার্চের অণ্যতম প্রধান আকর্ষন বা গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ডোমেস্টিক ভ্যালু অ্যাডিশন বা DVA বৃদ্ধি। যা সরাসরি নির্মাতাদের দ্বারা এবং পরোক্ষভাবে সরবরাহকারী সহ পরিষেবা প্রদানকারীদের মাধ্যমে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২-২৩ সালে মোট DAV উৎপাদন মূল্যে ২৩% ছিল। যা বর্তমানে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া মোবাইল ফোনের উত্থান ভারতের শ্রমবাজার কেও নতুন রূপ দিচ্ছে। ASI-এর তথ্য অনুসারে, ২০২২-২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উভয় ধরণের কর্মসংস্থানে এই খাতটি থেকে এই পর্যন্ত ১৭ লক্ষেরও বেশি লোক নিযুক্ত হয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে, এই সময়ের মধ্যে রপ্তানি-সংযুক্ত কর্মসংস্থান ৩৩ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।




