Article By – সুনন্দা সেন

২০২৬ সালের মার্চ ত্রৈমাসিক (জানুয়ারি-মার্চ)-এ ভারতে সোনার মোট চাহিদা প্রায় ১০% বেড়েছে। তবে এই বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় কারণ গয়না নয়, বরং বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সোনা কেনার প্রবণতা। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই প্রথমবারের মতো গয়নার চাহিদাকে ছাড়িয়ে গেছে বিনিয়োগমূলক চাহিদা। অর্থাৎ ভারতে সোনার চাহিদা বাড়লেও তার প্রকৃতিগত ভাবে বদলেছে। আর এই বিনিয়োগই ভবিষ্যতে দেশের সোনার বাজারকে আরও আধুনিক ও বিনিয়োগ নির্ভর করে তুলতে পারে।
মার্চ ত্রৈমাসিকে মোট সোনার চাহিদা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫১ টন। এর মধ্যে বিনিয়োগের জন্য (যেমন – বার, কয়েন এবং ETF) চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে প্রায় ৮২ টনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে গয়নার চাহিদা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৬ টনে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৯% কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার দামের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ। উচ্চ দামের কারণে অনেক ক্রেতা গয়না কেনার বদলে সরাসরি বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছেন। কারণ বার ও কয়েনের মেকিং চার্জ কম থাকে এবং ETF-এর মাধ্যমে সহজে কেনাবেচা করা যায়।
এছাড়াও শেয়ারবাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা সোনাকে নিরাপদ ও বিশ্বস্ত বিনিয়োগ বিকল্প বেছে নিচ্ছেন। ফলে ETF-এ রেকর্ড পরিমাণ বিনিয়োগ দেখা গেছে, যা এই খাতের দ্রুত বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কেবল স্বল্পমেয়াদী পরিবর্তন নয়, বরং ভারতের সোনা কেনার মানসিকতায় একটি বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তনের সূচনা। আগে যেখানে সোনা মূলত বিয়ে বা ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে কেনা হতো, এখন সেটি ক্রমশ একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সম্পদে পরিণত হচ্ছে।




