Article By – সুনন্দা সেন

রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ভারত প্রায় ৩০০টি পণ্য চিহ্নিত করেছে, যেগুলির রাশিয়ার বাজারে বড় রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ভারতের উৎপাদন সক্ষমতা ও রাশিয়ার আমদানির চাহিদার মধ্যে স্পষ্ট মিল পাওয়া গেছে। বর্তমানে এই ৩০০টি পণ্যের ক্ষেত্রে রাশিয়ায় ভারতের রপ্তানি মূল্য প্রায় ১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অথচ একই পণ্যের জন্য রাশিয়ার মোট আমদানির পরিমাণ প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এই উদ্যোগে বড় সংস্থার পাশাপাশি MSME ও মাঝারি রপ্তানিকারকরাও উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
এই বিশাল ব্যবধানই ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করছে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা। আর এই চিহ্নিত পণ্যগুলির মধ্যে রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং গুডস, ফার্মাসিউটিক্যালস ও অ্যাক্টিভ ফার্মা উপাদান, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, কেমিক্যালস এবং প্লাস্টিকজাত পণ্য। এই সব খাতে ভারতের শক্তিশালী উৎপাদন ভিত্তি রয়েছে এবং তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সরবরাহ করার ক্ষমতাও আছে। সামগ্রিকভাবে, এনার্জি নির্ভর বাণিজ্যের বাইরে গিয়ে বহুমুখী পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাইছে ভারত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যে বড় ঘাটতির অন্যতম কারণ হলো অপরিশোধিত তেল ও সার আমদানির উপর নির্ভরতা। নতুন এই রপ্তানি উদ্যোগ সফল হলে, একদিকে যেমন বাণিজ্য ঘাটতি কমবে, অন্যদিকে ভারতীয় শিল্প ও রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজার ও আয়ের পথ খুলে যাবে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত–রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দেওয়া। এই লক্ষ্যে পৌঁছতে রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, লজিস্টিক সুবিধা উন্নত করা, পেমেন্ট ব্যবস্থা সহজ করা এবং ভারতীয় সংস্থাগুলিকে রাশিয়ার বাজারে সক্রিয়ভাবে প্রবেশে সহায়তা করার পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।




