Article By – সুনন্দা সেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমদানিকৃত জেনেরিক ওষুধে ওপর নতুন শুল্ক কাঠামো ঘোষণা করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের আগস্ট মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া জেনেরিক ওষুধের ওপর ১০০% শুল্ক আরোপ করা হবে। এরপর ২০২৯ সালের আগস্ট থেকে সেই শুল্ক বেড়ে ২০০% হবে। তবে এই দুই বছর অর্থাৎ ২০২৮ সালের আগে পর্যন্ত জেনেরিক ওষুধে শুল্ক শূণ্য থাকবে, যাতে কোম্পানিগুলি চাইলে উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করার সময় পায়। এদিকে ট্রাম্পের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো জেনেরিক ওষুদের উৎপাদন আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা এবং আমেরিকায় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো।
এই ঘোষণায় সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের মুখে পড়তে পারে ভারত, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধের অন্যতম বৃহৎ সরবরাহকারী দেশ ভারত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ রপ্তানির মূল্য ছিল প্রায় ১০.৫ বিলিয়ন ডলার। ফলে এই শুল্ক কার্যকর হলে ভারতীয় ফার্মা কোম্পানিগুলির রপ্তানি, মুনাফা এবং মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান চাপে পড়তে পারে। তবে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনায় জেনেরিক ওষুধ নিয়ে বিশেষ ছাড় বা সমঝোতার সম্ভাবনাও রয়েছে, তাই ভারতীয় কোম্পানিগুলির ওপর চূড়ান্ত প্রভাব এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
শুধু এই টুকুই নয়, শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণার প্রভাব ব্যবসায়ী সেক্টরেও পড়বে। ট্রাম্পের ঘোষিত ১০০% থেকে ২০০% আমদানি শুল্ক ভারতীয় ফার্মা শিল্পের জন্য বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ভারতের জেনেরিক ওষুধের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার। এই শুল্ক কার্যকর হলে ভারতীয় কোম্পানিগুলির রপ্তানি, আয় ও মুনাফার ওপর চাপ পড়তে পারে। পাশাপাশি অনেক সংস্থাকে মার্কিন বাজার ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের কথা ভাবতে হতে পারে, যা বিনিয়োগের খরচ বাড়াবে। তবে ২০২৮ পর্যন্ত সময় থাকায় কোম্পানিগুলির কাছে কৌশল পরিবর্তন ও বিকল্প পরিকল্পনা নেওয়ার সুযোগও থাকবে।




