Article By – সুনন্দা সেন

ভারতীয় মুদ্রার ইতিহাসে বড় ধাক্কা। শুক্রবার অর্থাৎ আজ আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে প্রথমবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৯৬ টাকার নিচে নেমে গেল রুপি। অর্থাৎ এখন ১ ডলার কিনতে ভারতীয়দের খরচ করতে হচ্ছে ৯৬ টাকারও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন শুধু মুদ্রাবাজার নয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচেও প্রভাব ফেলতে পারে। আর এই পতনের একাধিক কারণ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
- রুপির এই দুর্বলতার সবচেয়ে বড় কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের লাগামছাড়া বৃদ্ধি। বর্তমানে ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৯ থেকে ১১০ ডলারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক দেশ হওয়ায় তেলের দাম বাড়লে দেশের আমদানি বিলও বেড়ে যায়। ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং রুপির ওপর চাপ তৈরি হয়।
- অর্থনীতিতে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ (US Federal Reserve)-এর কর্মকর্তারা। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা আবারও মার্কিন ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতীয় বাজার থেকে অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতাও রুপির পতনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রুপির এই দুর্বলতা সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ ফেলতে পারে। কারণ ভারত প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি, ইলেকট্রনিক পণ্য, শিল্প কাঁচামাল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে ভবিষ্যতে পেট্রোল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস, মোবাইল ফোন, ইলেকট্রনিক্স এবং কিছু খাদ্যপণ্যের দামও বাড়তে পারে। বিদেশে পড়াশোনা করা ছাত্রছাত্রী, বিদেশ ভ্রমণকারী এবং আমদানিনির্ভর ব্যবসাগুলিও বড় চাপের মুখে পড়তে পারে।
একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ায় RBI-এর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। বাজার এখন দেখছে RBI ডলার বিক্রি করে বাজারে হস্তক্ষেপ করে কি না। তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আবার ভারতে ফিরতে শুরু করে, তাহলে রুপির ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত না বদলালে আগামী দিনে ১ ডলারের দাম ১০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছনোর আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।




