Article By – সুনন্দা সেন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বাড়লেও ভারতের বাসমতী চাল রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। রপ্তানিকারক ও শিল্প মহলের মতে, পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় বাসমতী চালের চাহিদা এখনও স্থিতিশীল রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বড় বাসমতী চাল রপ্তানিকারক দেশ ভারত। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ইরান ও ইরাক—ভারতীয় বাসমতী চালের প্রধান ক্রেতা। প্রতি বছর ভারতের মোট বাসমতী চাল রপ্তানির বড় অংশই এই অঞ্চলেই যায়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বিশ্ব বাণিজ্যকে কিছুটা চাপে ফেলেছে। অনেক ক্ষেত্রেই শিপিং রুট, বীমা খরচ এবং পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবুও ভারতীয় রপ্তানিকারকদের মতে, বাসমতী চালের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শিল্প মহলের দাবি, বাসমতী চাল একটি প্রিমিয়াম খাদ্যপণ্য হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে এর চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকে।
কারণ রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময়েও অনেক দেশ তাদের খাদ্য আমদানিতে বড় কাটছাঁট করে না। ফলে বাসমতী চালের রপ্তানি হঠাৎ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো—ভারত ছাড়াও পাকিস্তান বাসমতী চাল রপ্তানি করে ঠিকই, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় বাসমতীর ব্র্যান্ড ও উৎপাদন পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে ক্রেতা দেশগুলোর বড় অংশ এখনও ভারতের ওপর নির্ভরশীল। রপ্তানিকারক সংগঠনগুলোর মতে, যদি সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সমুদ্রপথে পরিবহণে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়, তখন কিছুটা বিলম্ব বা পরিবহণ ব্যয় বাড়তে পারে।
তবে আপাতত বড় ধরনের রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ভারতের বাসমতী চাল রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে এবং এটি কৃষি রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশে উৎপাদিত বাসমতী চাল আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি যদি দ্রুত স্থিতিশীল হয়, তাহলে বাসমতী চাল রপ্তানি স্বাভাবিক গতিতেই চলতে থাকবে। তবে বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে, তা নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কত দ্রুত শান্ত হয় তার ওপর।




