Article By – সুনন্দা সেন

ভারত শুধু নিজস্ব জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য নয়, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা এবং মায়ানমার প্রায়শই ভারতের ওপর নির্ভরশীল থাকে তাদের ডিজেল, পেট্রোল, LPG এবং এভিয়েশন ফুুয়েলের জন্য। এই দেশগুলিতে বড় পরিমাণে রিফাইনিং সুবিধা নেই, তাই ভারত তাদের জন্য একটি মূল জ্বালানি (Fuel) সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছে। দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির একটি শক্তিশালী জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করার সাথে প্রতিবেশী দেশগুলোর দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ হচ্ছে। তারা শিল্প ও কৃষি উৎপাদন সমর্থিত হচ্ছে এবং জ্বালানির দাম ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে।
বাংলাদেশের মানুষ রান্নার গ্যাস এবং শিল্প খাতের জন্য ভারতের LPG ও ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল। ভারত থেকে সরবরাহে কোনো ব্যাঘাত ঘটলে দাম বাড়তে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতি ও দৈনন্দিন জীবনের ব্যয় বাড়তে পারে। নেপাল ও ভুটানও ভারতের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, যা তাদের রাস্তাঘাট, পরিবহন ও পর্যটন খাতকে প্রভাবিত করতে পারে। শ্রীলঙ্কার মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে পরিবহন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ভারতের জন্য এই রফতানি শুধুই অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও তা গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি রফতানি ভারতের জন্য রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় একটি স্থায়ী ও নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে ভারতের অবস্থান দৃঢ় করে। প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রেও ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে চ্যালেঞ্জগুলোও রয়েছে। গ্লোবাল ক্রুডের দাম বৃদ্ধি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে, ভারতের রফতানি এবং দেশীয় সরবরাহ উভয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পেলে রফতানি সীমিত হয়ে যেতে পারে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য চাপ তৈরি করবে।
সর্বশেষে বলা যায়, ভারত দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির একটি শক্তিশালী জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ হচ্ছে, শিল্প ও কৃষি উৎপাদন সমর্থিত হচ্ছে এবং জ্বালানির দাম ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে। ভারতের এই জ্বালানি রফতানি শুধু অর্থনৈতিক সুবিধা নয়, অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা এবং কৌশলগত প্রভাবও বৃদ্ধি করছে।




