Article By – সুনন্দা সেন

১২ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সি বা IEA এক প্রতিবেদনের জানিয়েছে যে ভারতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যা ব্যবহার বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো প্রকল্পের সম্প্রসারণের উপর নির্ভরশীল। IEA-এর এনার্জি মার্কেট এবং সিক্যুইরিটি ডিরেক্টর Keisuke Sadamori বলেন, ভারতের গ্যাস মার্কেট প্রবৃদ্ধির এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। যা উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং স্পষ্ট নীতি নির্দেশনার দ্বারা সমর্থিত। আর ভারতের জ্বালানি বা এনার্জি ডিমান্ড বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলি হল নগরায়ণ, শিল্পায়ন, গতিশীল এবং পর্যটকের প্রতি আগ্রহী ধনী মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উত্থাণ। এগুলি ছাড়াও ক্লিন কুকিং গ্যাস সম্প্রসারণের পদক্ষেপের ফলে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে।
IEA-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে ভারত এখন থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা বৃদ্ধির বৃহত্তম উৎস হয়ে উঠবে। এটি এমন সময়ে আসবে যখন উন্নত অর্থনীতির দেশগুলিতে চাহিদা প্রাথমিকভাবে ধীর হয়ে যাবে এবং পরে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বিপরীত দিকে নিতে সাহায্য করবে। ভারতের তেল কোম্পানিগুলিও ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে পরিশোধন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এনার্জি ডিমান্ড বা জ্বালানি চাহিদা মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে ভারতের LNG আমদানিও বৃদ্ধি পাবে। ভারতের প্রধান LNG আমদানিকারদের মধ্যে রয়েছে গেইল, IOC, BPCL এবং পেট্রোনেট LNG-এর মতো প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ধীর প্রবৃদ্ধি এবং পর্যায়ক্রমিক পতনের পর, ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে ভারতের প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ১০%-এরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। যা IEA-এর মতে, একটি “বিবর্তন বিন্দু” নির্দেশ করে। ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে তার প্রাথমিক জ্বালানি মিশ্রণে প্রাকৃতিক গ্যাসের অংশ বর্তমানে ৬% থেকে ১৫%- এ উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে। তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন, ২০২৩ সালে দেশের গ্যাস চাহিদার প্রায় অর্ধেক পূরণ করেছিল। যা ২০৩০ সাল পর্যন্ত মাঝারি গতীতে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর অর্থ হল, প্রত্যাশিত গ্যাস ব্যবহারের বৃদ্ধির বেশিরভাগই এলএনজি আমদানি বা সুপার-হিল্ড গ্যাসের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে।




