Article By – সুনন্দা সেন

ইন্ডিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US)-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন ডেপুটি স্টেট সচিব ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ সম্প্রতি রাইজিনা ডায়লগ, ২০২৬-এ এই তথ্যের বিষয় জানান। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যেকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সমঝোতা হয়েছে এবং এখন শুধু চূড়ান্ত আইনি যাচাই বাকি রয়েছে। ল্যান্ডাউ আরও বলেন, দুই দেশ খুবই তাড়াতাড়ি চুক্তির আইনি নথি স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত হতে পারে, যা ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা প্রদান করবে।
চুক্তির মূল বিষয় গুলোর মধ্যে রয়েছে পারস্পরিক ট্যারিফ বা শুল্ক হ্রাস। মার্কিন পণ্যে ভারতের ট্যারিফ কমানো হবে এবং ভারতের পণ্যে মার্কিন ট্যারিফ প্রায় ১৮%-এ সীমিত হবে। এছাড়াও ভারত আগামী পাঁচবছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের এনার্জি, বিমান, প্রযুক্তি ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেবে এবং ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে। সাথে এই বাণিজ্যিক লেনদেন ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরী করবে।
চুক্তির মাধ্যমে নন-ট্যারিফ বাধা এবং পণ্যের মান নিয়ে এডজাস্ট করা হবে। ভারতের সরকারকে ছয় মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলা হবে – মার্কিন নীতি নাকি আন্তর্জাতিক মান। এই পদক্ষেপ বাণিজ্যকে আরও সহজ এবং কার্যকর করবে এবং দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা দূর করতে সাহায্য করবে। ল্যান্ডাউ উল্লেখ করেছেন, এই বাণিজ্য চুক্তি কেবল অর্থনৈতিক নয় বরং কৌশলগত অংশীদারিত্বকেও দৃঢ় করবে। ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই নিরাপত্তা, সামরিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে এবং এটি দু-দেশকেই বৈশ্বিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে। চূড়ান্ত আইনি নথি এখনো প্রস্তুত নয়, তবে এই অস্থায়ী ট্রেড ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত চুক্তির দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় রপ্তানিকারক এবং ভোক্তাদের জন্য নতুন বাজারের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়াও, এটি ভারতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং ভোক্তাদের জন্য বিভিন্ন পণ্যে দাম ও সরবরাহের সুবিধা আনবে।




