Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের ভোক্তা মূল্য সূচক বা CPI(Consumer Price Index) ভিত্তিক মুদ্রাস্ফীতি ২০২৫ সালের মে মাসে ২.৮২%-এ নেমে এসেছে। যা এপ্রিলের ৩.১৬% থেকে ৩৪ বেসিস পয়েন্ট কম। এছাড়া এটি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। এই পতন প্রত্যাশার চেয়েও তীব্র ছিল, আর সংবাদ মাধ্যমের জরিপে মে মাসের মুদ্রাস্ফীতি ২.৯৫% ধরা হয়েছিল বলেও জানা যাচ্ছে। এই পতনের একটি প্রধান কারণ ছিল খাদ্য মূল্যস্ফীতি। যা ০.৯৯%-এ নেমে এসেছে, আর তা ২০২১ সালের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন স্তর। এছাড়াও এটি এপ্রিলের ১.৭৮% এবং জরিপের অনুমান ১.৮%-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
মে মাসে গ্রামীণ মুদ্রাস্ফীতি ২.৫৯% এ নেমে এসেছে, যা এপ্রিলে ছিল ২.৯২%। অন্যদিকে শহরাঞ্চলে মুদ্রাস্ফীতি ৩.৩৬% থেকে কমে ৩.০৭% এ নেমে এসেছে। গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের খাদ্য মূল্যস্ফীতি যথাক্রমে ০.৯৫% এবং ০.৯৬%-এ দাঁড়িয়েছে। প্রধান প্রধান শ্রেণীর মধ্যে শাকসবজির দাম বছরে ১৩.৭০% কমেছে, ডালের দাম ৮.২২% কমেছে এবং শস্যের দামও হ্রাস পেয়েছে। পাশাপশি জ্বালানি ও লাইটের মূল্যস্ফীতি ২.৭৮% এ নেমেছে, যেখানে গৃহস্থালি মূল্যস্ফীতি ৩.১৬% এ পৌঁছেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিবহন মুদ্রাস্ফীতির হার যথাক্রমে ৪.১২%, ৪.৩৪% এবং ৩.৮৫%-এ উন্নীত ছিল, তবে প্রধান মুদ্রাস্ফীতির সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণের উপর এর খুব কম প্রভাব ছিল।
এছাড়া অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের উপর মৌলিক শুল্ক অর্ধেক করার সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের ফলে দামের চাপও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ ভারতের ভোজ্যতেলের ব্যবহারের প্রায় ৬০% আমদানি থেকে আসে। অন্যদিকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভোজ্যতেলের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ভোজ্যতেলের মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে পৌঁছে যায়। আর গত ছয় মাস ধরে মুদ্রাস্ফীতি ১৩%- এর উপরে রয়েছে এবং এই বিভাগটি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার ফলের মূল্যস্ফীতি আগের মাসের ১৩.৯% থেকে কমে ১২.৭%- এ দাঁড়িয়েছে। তবুও টানা পঞ্চম মাসের জন্য এটি দ্বি-অঙ্কে রয়ে গেছে।




