Article By – সুনন্দা সেন

ডিসেম্বর মাসে ভারতে খুচরা মুদ্রাস্ফীতি বা কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) কিছুটা বেড়ে ১.৬৬%- এ পৌঁছাতে পারে বলে অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থাগুলির অনুমান। এর আগে নভেম্বর মাসে এই হার ছিল প্রায় ০.৭%, অর্থাৎ এক মাসে মূল্যবৃদ্ধির গতি স্পষ্টভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ হল খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি। শীতের শুরুতে সরবরাহে কিছুটা চাপ পড়ায় শাকসবজি, ডাল ও কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে টমেটো ও অন্যান্য সবজির দাম বৃদ্ধি সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতির উপর প্রভাব ফেলেছে।
খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে যে মূল বা কোর মুদ্রাস্ফীতি, সেটিও ডিসেম্বর মাসে কিছুটা বেড়েছে। সোনা ও কিছু ভোক্তা পণ্যের দাম বাড়ার ফলে কোর ইনফ্লেশনে ঊর্ধ্বমুখী চাপ দেখা যাচ্ছে। যদিও এই বৃদ্ধি খুব বেশি নয়, তবু তা অর্থনীতিবিদদের নজরে এসেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হল, ডিসেম্বরের সম্ভাব্য ১.৬৬% মুদ্রাস্ফীতি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অনেক কম। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে CPI মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৫%- এরও বেশি। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে মূল্যবৃদ্ধি এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে।
এই পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। ইতিমধ্যেই RBI চলতি অর্থবর্ষের গড় মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস কমিয়ে প্রায় ২%- এর কাছাকাছি এনেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, নিম্ন মুদ্রাস্ফীতি অর্থনৈতিক বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হতে পারে এবং ভবিষ্যতে নীতিগত সিদ্ধান্তে এর প্রভাব পড়তে পারে। বলা যায় যে, ডিসেম্বর মাসে খুচরা মুদ্রাস্ফীতির সামান্য বৃদ্ধি মূলত খাদ্যদ্রব্যের দামের কারণেই। তবে মূল্যবৃদ্ধি এখনও সহনীয় সীমার মধ্যে থাকায় সাধারণ মানুষের উপর বড় চাপ পড়ার আশঙ্কা আপাতত কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।




