Article By – সুনন্দা সেন

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, শিপিং সমস্যা এবং বাড়তি পরিবহন খরচের মাঝেও ভারতের টেক্সটাইল শিল্প চলতি অর্থবছরে স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে দেশের টেক্সটাইল রপ্তানি বেড়ে হয়েছে প্রায় ৩.১৬ লক্ষ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২.১% বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃদ্ধি যদিও খুব বড় নয়, তবে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক সংকেত। কারণ, একই সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই রপ্তানিতে চাপ দেখা গিয়েছে।
সেক্টরভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, রেডিমেড গার্মেন্টস বা তৈরি পোশাক রপ্তানি সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে। এই খাতে প্রায় ২.৯% বৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি ম্যান-মেড টেক্সটাইল, যেমন সিন্থেটিক সুতা ও কাপড়, প্রায় ৩.৬% হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, তুলা নির্ভর পণ্য—যেমন কটন ইয়ার্ন ও হ্যান্ডলুম প্রায় স্থিতিশীল ছিল, খুব সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। তবে হ্যান্ডিক্রাফ্টস খাতে প্রায় ৬%- এর বেশি বৃদ্ধি এই সেক্টরের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই বৃদ্ধির পেছনে একটি বড় কারণ হলো নতুন বাজারে ভারতের প্রবেশ। তথ্য অনুযায়ী, ভারত এখন ১২০-রও বেশি দেশে টেক্সটাইল রপ্তানি করছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও জাপানের মতো দেশে চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি, মিশর, নাইজেরিয়া ও সেনেগালের মতো উদীয়মান বাজারেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। এছাড়া, সরকারের বিভিন্ন সহায়ক নীতিও এই সেক্টরকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।
রপ্তানি প্রণোদনা প্রকল্প এবং নতুন বাণিজ্য চুক্তি আবার ইউরোপ ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্ভাব্য ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট, ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা বাড়িয়েছে। তবে চ্যালেঞ্জ এখনও রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাধা সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে পরিবহন খরচ বেড়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।




