Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের বেসরকারি মূলধনী ব্যয় বা ক্যাপেক্স বৃদ্ধির পরবর্তী ধাপ বর্তমানে অনেকটাই নির্ভর করছে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও ডেটা সেন্টার খাতের ওপর। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে নতুন বিনিয়োগের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়েছে। যার ফলে ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিনিয়োগের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উঠে আসছে পাওয়ার ও ডিজিটাল অবকাঠামো। গত কয়েক বছরে কেন্দ্র সরকারের উৎপাদনমুখী নীতি, PLI স্কিম এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের ফলে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে বড় বিনিয়োগের আশা তৈরি হয়েছে। তবে বৈশ্বিক অবস্থান ও নতুন উৎপাদন প্রকল্পের ফলে বিনিয়োগ বাড়ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডিজিটাল পরিষেবার দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে দেশে ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য শক্তি, ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হচ্ছে। অন্যদিকে বড় প্রযুক্তি সংস্থা এবং অবকাঠামো বিনিয়োগকারীরা নতুন ডেটা সেন্টার নির্মানে আগ্রহও দেখাচ্ছে। এই খাতে বিনিয়োগ শুধু ডিজিটাল পরিসেবাকে শক্তিশালী করবে না, বরং নির্মাণ, বিদ্যুৎ, টেলিকম এবং প্রযুক্তি খাতেও নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বিদ্যুৎ ও ডেটা সেন্টার খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ভারতের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক। এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যদিও উৎপাদন খাতের বিনিয়োগ পুনরুজ্জীবিত (Investment revived) না হলে সামগ্রিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা সীমিত থাকতে পারে। অর্থাৎ ভারতের ক্যাপেক্স চক্র এখনও সক্রিয় থাকলেও এর নেতৃত্ব এখন ধীরে ধীরে ,ম্যানুফ্যাকচারিং থেকে সরে বিদ্যুৎ ও ডেটা সেন্টার খাতের দিকে ঝুঁকছে।




