Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে LG ইলেকট্রনিক এবং স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে OLED টিভির আমদানি করা যন্ত্রাংশে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের রাজস্ব ইন্টেলিজেন্স অধিদপ্তর (Directorate of Revenue Intelligence)-এর বক্তব্য, OLED টিভিতে ব্যবহৃত মূল্যবান “অপেন সেল” গ্লাস ডিসপ্লের উপর সংস্থাগুলি ৫% ছাড়যুক্ত আমদানি শুল্ক (concessional import duty) আরোপ করেছে, অথচ কর্তৃপক্ষের মতে এই যন্ত্রাংশে ১৫% শুল্ক প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
অন্যদিকে LG ও স্যামসাংয়ের অবস্থান হল, OLED প্রযুক্তি মূলত LED প্রযুক্তিরই উন্নত সংস্করণ, তাই LCD ও LED ডিসপ্লে পার্টসের মতো OLED-এর ক্ষেত্রেও ৫% ছাড়ের শুল্ক (concessional duty) প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আর স্যামসাং জানিয়েছে, তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (concerned authorities)-কে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে। এদিকে LG-কে লিখিতভাবে প্রশ্ন পাঠানো হয়েছে এবং সংস্থাটি সম্ভাব্য অতিরিক্ত শুল্কের জন্য একটি অপ্রকাশিত অঙ্ক স্বেচ্ছায় জমাও দিয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
বিষয়টি ব্যবসায়িক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের পরে কর্তৃপক্ষের দাবি সঠিক প্রমাণিত হলে বকেয়া শুল্কের পাশাপাশি জরিমানাও হতে পারে। একই সঙ্গে OLED পার্টসের উপর ৫%- এর বদলে ১৫% শুল্ক কার্যকর হলে ভারতে প্রিমিয়াম OLED টিভি তৈরির ইনপুট খরচ বাড়তে পারে। শিল্প সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই OLED কম্পোনেন্ট (components)-কেও ৫% ছাড়ের শুল্কের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে। মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত এক বছরে ভারতে ডিসপ্লে ও TV পার্টসের আমদানি ১৫% বেড়ে ৫.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
OLED টিভির আমদানি করা যন্ত্রাংশে কোন হারে শুল্ক প্রযোজ্য হবে, সেই বিরোধ LG ও স্যামসাংয়ের জন্য অতিরিক্ত কর ও সম্ভাব্য জরিমানার ঝুঁকি তৈরি করছে। কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী শুল্কের হার বেশি হলে ভারতে OLED টিভি তৈরির ইনপুট খরচ বাড়তে পারে, যা সংস্থাগুলির প্রফিট মার্জিনের উপর চাপ তৈরি করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত প্রিমিয়াম OLED টিভির দামেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে এই তদন্ত শুধু দুই সংস্থার শুল্ক-সংক্রান্ত বিষয় নয়, ভারতের কনজিউমার ইলেকট্রনিক্সস ও টিভি ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরের খরচের শ্রেণি এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।




