Article By – সুনন্দা সেন

পশ্চিমবঙ্গে চলতে থাকা LPG বা রান্নার গ্যাসের সংকট এবার বড় আঘাত হানলো পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ইন্ডাস্ট্রিকে বিশেষ করে কলকাতার বহু পুরনো ও জনপ্রিয় মিষ্টির দোকান দুধ-ভিত্তিক মিষ্টি তৈরি কমাতে বা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। খবর অনুযায়ী, উত্তর কলকাতার প্রায় ১৭০ বছরের পুরনো মিষ্টির দোকান গিরিশ চন্দ্র দে ও নকুল চন্দ্র নন্দী তাদের বিখ্যাত মালাই রোল, মালাই সিঙ্গারা ও সরপুরিয়া তৈরি আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ এই ধরনের মিষ্টি বানাতে প্রচুর সময় ধরে দুধ জ্বাল দিতে হয় এবং তাতে প্রচুর LPG-এর খরচ হয়।
একই পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে বলরাম মল্লিক অ্যান্ড রাধারামান মল্লিকের মতো জনপ্রিয় মিষ্টির চেইন ব্যবসায়। জানা গেছে তা প্রায় ৫০% পর্যন্ত দুধ কেনা কমিয়ে দিয়েছে। যার ফলে অনেক দুধ দিয়ে তৈরি মিষ্টির উৎপাদনও কমেছে। শুধু তাই নয় হুগলি জেলার রিষড়ায় অবস্থিত শতবর্ষ বা তারও প্রাচীন মিষ্টি দোকান ফেলু মোদক (Felu Modak)-ও এই লাইনে রয়েছে। জনপ্রিয় মিষ্টি ব্যবসায়িক চেইন রাবড়ি ও বোঁদের মতো মিষ্টির উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।
মিস্টি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাংলার মিষ্টি ইন্ডাস্ট্রিতে দশ লক্ষেরও বেশি মানুষ কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত। হাজার হাজার ছোট-বড় মিষ্টির দোকান প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে মিষ্টি সরবরাহ করে। তাই LPG সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এই ইন্ডাস্ট্রি বড় সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের মতে, অনেকটা কোভিড সময়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে তখন বিক্রি কমেছিল, কিন্তু এখন সমস্যা হচ্ছে উৎপাদনে। কারণ মিষ্টি প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় LPG বা রান্নার গ্যাসই পাওয়া যাচ্ছে না।
এরই মধ্যে সংকট মোকাবিলায় রাজ্য সরকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর নির্দেশে LPG সরবরাহ নজরদারির জন্য কন্ট্রোল রুম ও হেল্পলাইনও চালু করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি দ্রুত LPG সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, সেক্ষেত্রে কেবল মিষ্টি দোকান নয় রেস্টুরেন্ট, হোটেল ও ছোট খাবারের দোকানগুলিও বড় সমস্যার মুখে পড়তে পারে।




