Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে ভোজ্যতেল; বিশেষ করে পাম অয়েল ও সয়াবিন তেল আমদানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে স্টোরেজ সংকট তৈরি হয়েছে। বন্দরের উপকূলীয় স্টোরেজ ট্যাঙ্ক প্রায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় আমদানি করা তেলবাহী জাহাজ খালাস করতে ১০ দিন পর্যন্ত দেরি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে গুজরাটের কান্ডলা বন্দরে। সেখানে অন্তত ৯টি জাহাজে প্রায় ৩ লাখ টন ভোজ্যতেল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ হলদিয়া বন্দরেও কিছুটা ক্যাওস তৈরি হয়েছে। কান্ডলা ভারতের মোট ভোজ্যতেল আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সামলায়।
আর এর মূল কারণ, রিফাইনাররা কম দামের সুযোগ নিয়ে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের জন্য প্রচুর তেল আগাম কিনেছিল। একই সময়ে উৎসবের মরশুমে চাহিদা বাড়বে বলে আশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তেলের ব্যবহার প্রত্যাশামতো বাড়েনি। ফলে বন্দর থেকে তেল দ্রুত সরতে না পারায় স্টোরেজ ট্যাঙ্কে জায়গার সংকট তৈরি হয়েছে। যেখানে আগস্টে ভারতের ভোজ্যতেল আমদানি ১.৫৪ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে, যা ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
সাথে সেপ্টেম্বরে আমদানিও প্রায় একই মাত্রায় থাকতে পারে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন। এই পরিস্থিতিতে রিফাইনাররা অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের জন্য নতুন করে পাম অয়েল ও সয়াবিন তেল কেনা কমাতে পারেন। এর প্রভাব শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভারতের চাহিদা কমলে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও আর্জেন্টিনার মতো প্রধান উৎপাদক দেশে মজুত বাড়তে পারে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে পাম অয়েল ও সয়াবিন তেলের দামে চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এখনই রান্নার তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। বরং বন্দরে বিপুল পরিমাণ তেল জমে যাওয়ায় সরবরাহের গতি কিছুটা ব্যাহত হতে পারে। যদি এই স্টোরেজ সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং আমদানিকারকরা পরবর্তী সময়ে আমদানি কমিয়ে দেন, তাহলে বাজারে সরবরাহ কমে পাম অয়েল, সয়াবিন তেলসহ বিভিন্ন ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত মজুত দ্রুত বাজারে চলে এলে দাম স্থিতিশীলও থাকতে পারে। অর্থাৎ, সাধারণ ক্রেতার জন্য এখন মূল বিষয় হলো তেলের সরবরাহ ও আমদানির পরবর্তী গতিপথের দিকে নজর রাখা।




