Article By – সুনন্দা সেন

ভারত সরকার রপ্তানিকারক এবং ছোট ব্যবসায়ীদের সুবিধা প্রদানে কাস্টমস শুল্ক সংক্রান্ত নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো রপ্তানি প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করা, খরচ কমানো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলিকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দেওয়া। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ডাক বা পোস্টাল মাধ্যম পাঠানো রপ্তানি পণ্যকেও এখন নিয়মিত কার্গোর মতোই বিবেচনা করা হবে। যার ফলে এতদিন যে জটিলতা ও সীমাবদ্ধতা ছিল তা অনেকটা দূর হবে। এর আগে পোস্টাল রপ্তানির ক্ষেত্রে অনেক শুল্ক -মুক্তির সুবিধা কার্যকরভাবে পাওয়া যেত না। ফলে ছোট ব্যবসা, হস্তশিল্পী, স্টার্টআপ এবং অনলাইন বিক্রেতারা Duty Drawback, RODTEP কিংবা ROSCTL-এর মতো সরকারি প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হতেন।
নতুন ব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক রপ্তানি নথির মাধ্যমে এই সুবিধাগুলি পাওয়া যাবে, যা ক্ষুদ্র রপ্তানিকারীদের জন্য বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রথমবার রপ্তানিতে নামা উদ্যোক্তা এবং ই-কমার্স নির্ভর ব্যবসাগুলির জন্য বিদেশে পণ্য পাঠানো অনেক সহজ হবে। সরকারি মহলের মতে, এই সংস্কার ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধির কৌশলেরই একটি অংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপস্থিতি বাড়াতে হলে ছোট ও মাঝারি সংস্থাগুলিকে শক্তিশালী করা জরুরি, আর সেই লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার ফলে কাগজপত্রের জটিলতা কমবে, সময় বাঁচবে এবং ব্যবসার মোট খরচও হ্রাস পাবে।
বিশেষ করে যেসব ব্যবসা অল্প পরিমাণে কিন্তু নিয়মিত রপ্তানি করে, তাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে ভারতের রপ্তানি কাঠামো আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। এতদিন যেসব ছোট ব্যবসা শুধুমাত্র প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে রপ্তানি থেকে পিছিয়ে ছিল, তারা এখন মূলধারায় আসতে পারবে। এর প্রভাব শুধু রপ্তানি পরিসংখ্যানেই নয়, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতেও পড়বে। সামগ্রিকভাবে, কাস্টমস শুল্ক ব্যবস্থার এই সংস্কার ভারতের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




