Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের মোবাইল ফোনের বাজারে মে মাসে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। নতুন বাজারে রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের স্মার্টফোন বিক্রি ভলিউমের দিক থেকে প্রায় ৩০% থেকে ৩৫% পর্যন্ত কমে গেছে। এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মাসিক পতন হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতনের প্রধান কারণ হলো স্মার্টফোনের দাম ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া, উপাদান খরচ বা (Material Cost), নতুন প্রযুক্তি সংযোজন এবং 5G ফোনের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে গড় ফোনের দাম অনেক বেড়েছে।
ফোনের দাম বৃদ্ধির ফলে মধ্যবিত্ত ও বাজেট ক্রেতাদের জন্য নতুন ফোন কেনা আগের তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে। বাজার বিশ্লেষণ বলছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বাজেট এবং মিড-রেঞ্জ সেগমেন্ট। এই দুটি বিভাগ ভারতের মোট স্মার্টফোন বিক্রির বড় অংশ জুড়ে থাকে। কিন্তু দাম বাড়ার কারণে অনেকেই তাদের ফোন আপগ্রেড করার পরিকল্পনা স্থগিত করছেন বা পিছিয়ে দিচ্ছেন। ফলে শোরুম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম উভয় জায়গাতেই বিক্রির হার কমেছে।
অন্যদিকে আবার প্রিমিয়াম বা উচ্চ মূল্যের স্মার্টফোন বিক্রি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। উচ্চ আয়ের গ্রাহকেরা নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোন কিনলেও সেই বিক্রি পুরো বাজারের পতন সামলাতে পারছে না। রিটেইলারদের মতে, বর্তমানে বাজারের চাহিদা কমে যাওয়ায় স্টক রোটেশনও ধীর হয়েছে। অনেক দোকানেই নতুন মডেলের বিক্রি আগের মতো দ্রুত হচ্ছে না। এমনকি ই-কমার্স সাইটগুলোতে ও ডিসকাউন্ট থাকলেও তা চাহিদা বৃদ্ধিতে খুব বেশি কার্যকর হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোন বাজার ধীরে ধীরে “ভলিউম-ড্রিভেন” থেকে “ভ্যালু-ড্রিভেন” মডেলে যাচ্ছে। অর্থাৎ, কম ফোন বিক্রি হলেও কোম্পানিগুলো বেশি দামের ফোন বিক্রি করে আয় ধরে রাখার চেষ্টা করছে। তবে এই পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে বাজারের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কারণ ভারতের মতো দেশে বড় অংশের গ্রাহক এখনও বাজেট এবং মিড-রেঞ্জ ফোনের ওপর নির্ভরশীল। অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী মাসগুলোতেও স্মার্টফোন বাজারে দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।




