Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের অর্থনীতি ২০২৫ সালে দ্রুত GDP বৃদ্ধির হার প্রদর্শন করছে যে, কিছু গণনা অনুযায়ী GDP বৃদ্ধির হার প্রত্যাশার থেকে ছাড়িয়ে ৮%–এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। যা আবার বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে এই দ্রুত বৃদ্ধির পেছনে কিছু ঝুঁকি লুকিয়ে আছে এবং সবকিছু ততোধিক টেকসই নয়। আজ (১২ ডিসেম্বর,২০২৫) প্রকাশিত এক মতামত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মানের দিক দিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রাইভেট সেক্টরের বিনিয়োগ বা ক্যাপেক্স ধীরগতি।
অর্থাৎ কোম্পানি বা বেসরকারি খাত নতুন বড় প্রকল্পে যথেষ্ট টাকা লাগাচ্ছে না, বরং সরকারের বড় খরচেই এই GDP বৃদ্ধির চাপ তৈরি হচ্ছে। বেসরকারি বিনিয়োগের এই দুর্বলতা দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী উন্নয়নের জন্য বিঘ্ন ঘটাতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোম্পানিগুলি সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত আইন, নিয়মাবলী এবং দলিলের মৌলিক বিষয়বস্তু ও নিবন্ধন পদ্ধতি নীতির অনিশ্চয়তা, কম চাহিদা, ঋণের ওপর মনোভাব এড়িয়ে চলা এবং বাস্তব কর্মী-খরচ বৃদ্ধির কম গতির মতো কারণে নতুন উদ্যোগ বা বড় বিনিয়োগ পিছিয়ে দিচ্ছে। ফলে সরকারের ওপর অর্থনৈতিক বৃদ্ধির নির্ভরতা বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আরেকটি দিক হলো, যদিও জিডিপি দ্রুত বাড়ছে, তবুও সেটা সবখাতে সমানভাবে ছড়িয়ে বিস্তৃত হতে পারেনি। আর উদাহরণস্বরূপ সবখাতে উন্নতি না হওয়া বা কৃষিক্ষেত্রে তুলনামূলক ধীর উন্নয়ন ইঙ্গিত দেয় যে উন্নয়নের ফসল একরকম হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকরা বলছেন, বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য আরও নীতিগত সংস্কার এবং বিশ্বস্ত ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি, যাতে কেবল সরকারের খরচের ওপর নয়। বরং নিজি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায় এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও টেকসই হয়।




