Article By – সুনন্দা সেন

রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ প্রায় তিন বছর পর ফের ভারতের রুপি-বন্ড বাজারে বড় অঙ্কের তহবিল তুলতে চলেছে। সংস্থাটি ১২,৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে পাঁচ বছরের বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে। বন্ডগুলিতে বার্ষিক প্রায় ৭.৪৭% কুপন রেট রাখার পরিকল্পনা রয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে সেপ্টেম্বরের ১৮ তারিখে শেষ হওয়া সপ্তাহে বিড নেওয়া হতে পারে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে রিলায়েন্স শেষবার ২০,০০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল, তখন সেটি কোনও ভারতীয় নন-ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানির সবচেয়ে বড় লোকাল কারেন্সি ডেট সেল ছিল। এবারের ইস্যুটিও বড় কর্পোরেট বন্ড বাজারে গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।
জানা যাচ্ছে, প্রস্তাবিত বন্ডের মূল ইস্যুর আকার ১০,০০০ কোটি টাকা, পাশাপাশি অতিরিক্ত ২,৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের গ্রিনশু থাকতে পারে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের চাহিদা বেশি হলে নির্ধারিত মূল অঙ্কের বাইরে আরও টাকা তোলার সুযোগ থাকবে। এবার প্রশ্ন হল, কেন এখন বন্ড বাজার থেকে এত বড় অঙ্কের টাকা তুলছে রিলায়েন্স? বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে কোনও সংস্থা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি অর্থ সংগ্রহ করে এবং সেই অর্থ ব্যবসার বিভিন্ন আর্থিক প্রয়োজন, বিনিয়োগ বা সম্প্রসারণের কাজে ব্যবহার করতে পারে। বর্তমানে দেশীয় ঋণের বাজারে সুদের হার এবং বন্ডের ফলন তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক হওয়ায় রুপি-বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ আন্তর্জাতিক বা ডলার-নির্ভর ঋণের তুলনায় বেশি কার্যকর হতে পারে।
আর সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ হল, রিলায়েন্স ১২,৫০০ কোটি টাকা ধার করে সরাসরি মানুষের হাতে টাকা দিচ্ছে না। এই অর্থ কোম্পানি ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ বা অন্যান্য কর্পোরেট প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করতে পারে। তবে বিনিয়োগ সফল হলে ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান, পরিষেবা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বন্ডের টাকা ঋণ হওয়ায় রিলায়েন্সকে সুদসহ তা পরিশোধ করতে হবে। তাই এর প্রভাব কোম্পানির আর্থিক অবস্থার ওপরও নির্ভর করবে। পাশাপাশি এই খবরের প্রভাব শেয়ার বাজারেও দেখা যাচ্ছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার আজ বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। তবে শুধু বন্ড ইস্যুর খবরের ভিত্তিতে শেয়ারের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণ করা ঠিক হবে না।




