Article By – সুনন্দা সেন

ভারতীয় শেয়ারবাজারে ফের বাড়ছে উদ্বেগ। মঙ্গলবার বা আজকের ট্রেডিং সেশনে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ সূচক নিফটি ৫০ ০.৬১% নেমে ২৩,৬৩৫.১০-এ পয়েন্টে লেনদেন বন্ধ করেছে। অন্যদিকে একই দিনে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ সূচক সেনসেক্সও ০.৭৩% পতনের সাথে ৭৫,৫৭৭.৫৮-তে পৌঁছে লেনদেন শেষ করেছে। বাজারে এই দুর্বলতার পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছনো এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।এখন বাজারের নজর মূলত ২৩,৬০০ থেকে ২৩,৫০০ পয়েন্টের মধ্যে থাকবে।
প্রযুক্তিগত বিশ্লেষকদের মতে, এই অঞ্চলটি নিফটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট স্তর। অর্থাৎ, এই স্তরের কাছাকাছি এসে যদি ক্রেতারা বাজারে সক্রিয় হন, তাহলে সূচক ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। কিন্তু নিফটি যদি ২৩,৬০০–২৩,৫০০-এর নিচে টেকসইভাবে নেমে যায়, সেক্ষেত্রে বাজারে নিম্নমুখী (bearish)- এর চাপ আরও বাড়তে পারে। আর এই সাপোর্ট জোন ভেঙে গেলে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ডাউনসাইড টার্গেট হিসেবে নিফটি ২৩,৩০০- এ উঠে আসছে। অর্থাৎ, ২৩,৫০০-এর নিচে শক্তিশালী পতন হলে নিফটি আরও প্রায় ৩০০ পয়েন্ট পর্যন্ত নামার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও ২৩,৩০০-কে গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাজার যদি ২৩,৬০০-এর উপরে টিকে থাকতে পারে, তাহলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্তর ধরে রাখতে পারলে নিফটিতে রিবাউন্ড বা রিকভারির সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে উপরের দিকে ২৪,০০০ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা (resistance) হিসেবে কাজ করতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তা এবং অপরিশোধিত তেল (crude oil)-এর দামের গতিবিধিও আগামী দিনের বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।
স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারী ও ট্রেডারদের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট-রেজিস্ট্যান্স নজরে রাখা জরুরি। এটি বাজারের সম্ভাব্য দিক নিশ্চিত করার পূর্বাভাস নয়। নিফটির মান পড়লে তার প্রভাব সরাসরি আপনার দৈনন্দিন খরচে পড়বে, এমন নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে শেয়ার, মিউচ্যুয়াল ফান্ড বা পেনশন-সংক্রান্ত বিনিয়োগ থাকলে বাজারের পতনে আপনার বিনিয়োগের মূল্য সাময়িকভাবে কমতে পারে। অন্যদিকে বাজারের অস্থিরতা বাড়লে নতুন বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার। তাই শুধু নিফটি একদিন পড়েছে বলে আতঙ্কিত হয়ে বিনিয়োগ বিক্রি না করে নিজের বিনিয়োগের সময়সীমা ও ঝুঁকি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।




