আর্থিক পরিকল্পনা করার সময় গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন— সেটি হল বার্ধক্যের জন্য পর্যাপ্ত পরিকল্পনা। কিন্তু কোন বয়স থেকে প্রয়োজন রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানিং করার? আর্থিক উপদেষ্টারা মনে করেন ২৫-৩০ বছরের মধ্যেই রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানিং শুরু করা উচিত। তবে আপনি যদি ৪০-এর কোটায় পৌঁছে যান তাহলেও অবসরের পরিকল্পনার জন্য খুব দেরি হয়ে গেছে এমন ভাবার কিছু নেই। কারণ এখনও আপনার কাছে ২০ বছর বাকি রয়েছে অবসরের আগে। ভারতে সাধারণত ৬০ বছর বয়স অবসরের জন্য উপযুক্ত ধরা হয়। ফলে এই ২০ বছরে আপনি ভালো পরিমাণ সম্পদ তৈরি করতেই পারেন, তবে এর জন্য প্রয়োজন ঠিকঠাক পরিকল্পনার।
আপনি যদি ৪০-এর আগেই রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানিং শুরু করে দেন তাহলে সেটি অবশ্যই ভালো একটি পদক্ষেপ। কিন্তু ৪০ বছরেও যদি প্ল্যানিং শুরু করেন তবুও ৬০-পরবর্তী জীবনের জন্য যথেষ্ট অর্থ সঞ্চয় করা সম্ভব। তার কারণ—
প্রথমত, আপনি ২০ বা ৩০ বছরে যত আয় করতেন বর্তমানে ৪০ বছর বয়সে সাধারণত তার থেকে অনেকটাই বেশি আয় করেন। আর এটি হয় মূলত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা বাড়ার ফলে। যার জন্য আয়ও অনেকটাই বৃদ্ধি পায়। তাই ৪০ বছরে এসে আপনি ২০ বা ৩০ বছরের তুলনায় বেশি পরিমাণ টাকা invest করার সুযোগ পান।
আর দ্বিতীয়ত, এটা ঠিক যে ৪০ বছরে পৌঁছে যদি আপনি রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান করা শুরু করেন তাহলে আপনাকে আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা invest করতে হবে। কিন্তু তবুও আপনার কাছে অনেকটাই সময় থাকবে যে সময়ে আপনি যথেষ্ট পরিমাণে সঞ্চয় করতে পারবেন।
সুতরাং ৪০ বছরেও রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানিং শুরু করাই যায়। যদিও কিছু ফ্যাক্টর আপনাকে অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে যেমন– বর্তমানে আপনার আয় এবং ব্যয় কত, আপনি ইতিমধ্যে কোথায় কোথায় invest করেছেন বা savings করেছেন। কত বছর বয়সে আপনি রিটায়ার করতে চান, রিটায়ারমেন্ট ছাড়াও আর কী কী বড়সড়ো আর্থিক পরিকল্পনা রয়েছে আপনার, আপনার বিনিয়োগগুলি কি inflation beat করে, এবং সবচেয়ে জরুরি বিষয় চিকিৎসা খরচ মেটানোর জন্য যথেষ্ট বিমা করা আছে কিনা আপনার– ইত্যাদি বিষয়গুলি বিবেচনা করা দরকার।
রিটায়ারমেন্টের জন্য কত অর্থের প্রয়োজন?
ধরুন, আপনার বর্তমান বয়স ৪১ বা ৪২ বছর। এবং বার্ষিক খরচ ধরুন ৬ লাখ টাকা। যদি আপনি আপনার বার্ষিক খরচের ৩০ গুণ টাকা জমিয়ে ফেলতে পারেন তাহলে সেই পরিমাণ টাকা আপনার সম্পূর্ণ রিটায়ারমেন্টের জন্য যথেষ্ট হবে। Inflation যদি 6% হারে ধরা হয় তাহলে আপনার ৬০ বছর বয়সে গিয়ে এই খরচের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৯.২৪ লাখ টাকা। সুতরাং ১৯.২৪ লাখ টাকার ৩০ গুণ অর্থাৎ ৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা হবে আপনার রিটায়ারমেন্টের টার্গেট।
আরও একটি বিষয় নজরে রাখা প্রয়োজন, তা হল আপনার ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা। ৪০ বছরের শুরুর দিকে আপনার investment-এ equity exposure বেশি থাকতেই পারে, তবে যেমন যেমন আপনার বয়স বাড়বে আপনাকে equity exposure কমিয়ে আনতে হবে।
কীভাবে প্ল্যানিং করবেন?
রিটায়ারমেন্টের জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন সেটি প্রাথমিকভাবে অনেকটা বেশি শোনালেও ধীরে ধীরে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আয় যেমন বাড়বে খরচ কিন্তু সেই হারে ততটাও বাড়বে না। সেই কারণে ৪০-এর পর থেকে savings বা investment অনেকটা বাড়ানো সম্ভব। এবং অবশ্যই প্রতি বছর নিজের investment 10% করে step up করা জরুরি যাতে ভালো পরিমাণ অর্থ রিটায়ারমেন্টের জন্য জমানো সম্ভব হয়।
রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানিং-এর জন্য equity ও debt investment-এর ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।
→ রিটায়ারমেন্টের আগে অবধি ২০ বছরের SIP investment করা যেতে পারে equity mutual fund-এ।
→ আপনি যদি conservative investor হন এবং বেশি ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা না থাকে, তাহলে hybrid mutual fund-এ SIP করতে পারেন। Hybrid fund-এ equity ও debt-এর সুন্দর ভারসাম্য থাকে। Hybrid fund-এর মধ্যে equity ও debt-oriented দুরকম ফান্ডই থাকে। আপনি aggressively invest করতে চাইলে equity-oriented fund-এ বিনিয়োগ করতে পারেন যেখানে 70%-80% equity-তে বিনিয়োগ করা হয়। আবার conservative investor-রা debt-oriented fund বেছে নিতে পারেন যেখানে মাত্র 20%-25% equity-তে invested হয়, বাকিটা debt security-তে ইনভেস্ট করা হয়।
এছাড়া বেশ কয়েকটি রিটায়ারমেন্ট প্ল্যান রয়েছে যা আপনাকে কম ঝুঁকিতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে। যেমন–
EPF বা Employees’ Provident Fund : আপনার বেসিক স্যালারির সর্বাধিক 12% আপনি EPF-এ কন্ট্রিবিউট করতে পারেন। যদি আপনি 12%-এর বেশি কন্ট্রিবিউট করতে চান তাহলে Voluntary Provident fund-এর মাধ্যমে তা করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে employer’s কন্ট্রিবিউশন কিন্তু 12%-ই থাকবে।
PPF বা Public Provident Fund : বার্ষিক ১.৫ লাখ টাকা জমা করার সুযোগ রয়েছে PPF-এ। Stock বা mutual fund-এর মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের পাশাপাশি আপনি PPF-এর মতো নিশ্চিত আয়ের বিনিয়োগেও টাকা জমা করতে পারেন যেখানে বর্তমানে 7.1% interest পাওয়া যাচ্ছে।
NPS বা National Pension System : বার্ধক্যের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় একটি বিনিয়োগ বিকল্প হল NPS যেখানে মোটামুটি 9%-12% রিটার্ন পাওয়া যেতে পারে। আপনি এখানে নিজের ঝুঁকি নেওয়া ক্ষমতা অনুযায়ী aggressive, moderate বা conservative প্ল্যান বাছতে পারেন। NPS-এ আপনি বেশ কিছু কর সুবিধাও পাবেন।
মনে রাখতে হবে short-term বা স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্যগুলির জন্য debt security-তে investment-এ বেশি নজর দেওয়া উচিত আবার long-term লক্ষ্যগুলির জন্য equity investment বেশি উপযুক্ত।
এগুলি ছাড়াও নিজের পোর্টফোলিও সময়ে সময়ে রিব্যালেন্সিং করা এবং review করা জরুরি। আপনার আয়ের কোনো পরিবর্তন হলে, খরচ বাড়লে বা কমলে, স্বল্পমেয়াদি কোনো লক্ষ্য থাকলে ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ কৌশলও পরিবর্তন হবে।
যেমন উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, যদি আপনার আয় বাড়ে তাহলে আপনি SIP কন্ট্রিবিউশনের step up-এর পরিমাণ বাড়াতে পারেন।
সুতরাং ৪০-এর দোরগোড়ায় পৌঁছে অবসর পরিকল্পনা একটি অপরিহার্য বিষয়। কারণ যদি আপনি নিজের অবসরের জন্য যথেষ্ট অর্থ সঞ্চয় করতে পারেন তাহলে আপনার বার্ধক্য জীবন হবে আনন্দময়।





