Article By – সুনন্দা সেন

সরকারি তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ভারতের সামগ্রিক বাণিজ্য ঘাটতি (trade deficit) ৯.৪% কমে ২০.৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা হয়েছে প্রথম প্রান্তিকে পরিষেবা রপ্তানিতে প্রায় ১১% বৃদ্ধি কারণে। বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রনালয় কর্তৃক প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে যে ২০২৫ সালের এপ্রিল – জুন প্রান্তিকে ভারতের সামগ্রিক রপ্তানিও বেড়েছে। বাণিজ্য সচিব সুনীল বার্থওয়াল সাম্প্রতিক এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যদি চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের মতো রপ্তানি একই ভাবে বৃদ্ধি পায়, তবে ভারত গত অর্থবছরের রেকর্ড রপ্তানিকে অতিক্রম করে বাণিজ্যে নতুন রেকর্ড গড়বে। এছাড়া কেবল পরিষেবা নয়, প্রথম ত্রৈমাসিকে পণ্যদ্রব্য রপ্তানিও ইতিবাচক অবস্থানে ছিল।
গত অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে ভারতের মোট রপ্তানি ৮২৫ বিলিয়ন ডলারের সর্বকালে সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে। এদিকে দেখাচ্ছে যে চলতি অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিকে ভারতের সামগ্রিক রপ্তানি ২১০.৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যা গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের ১৯৮.৫ বিলিয়ন ডলার থেকে প্রায় ৬% বেশি। তবে ভারতের মোট রপ্তানির মধ্যে পরিষেবা খাত এই প্রবৃদ্ধি মূল চালিকাশক্তি। এই আর্থিক বছরের প্রথম প্রান্তিকে পরিষেবা খাতের রপ্তানি ১১% বেড়ে ৯৮.১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের এই সময় ৮৮.৫ বিলিয়ন ডলার ছিল। যেখানে পণ্য রপ্তানি মাত্র ২% বৃদ্ধি পেয়ে ১১২.২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং পেট্রোলিয়াম বহির্ভুত রপ্তানি ৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ভারতের মোট আমদানি প্রথম প্রান্তিক ৪.৪% বেড়ে ২৩০.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
এর পাশাপাশি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে ইলেকট্রনিক্স খাতের রপ্তানিতে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। তা ৪৭.১% বেড়ে ১২.৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এরপর সামুদ্রিক পণ্য রপ্তানি ১৯% বৃদ্ধি পেয়েছে ১.৯ বিলিয়ন ডলার, তামাক এবং চা রপ্তানিতেও যথাক্রমে প্রায় ১৯% এবং ১৬%-এর দ্বি-অংকের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আর আমদানির দিক থেকে সর্বাধিক প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী পণ্যগুলি ছিল সালফার , আনরোস্টেড লোই পাইরাইট, রুপো, রাসায়নিক উপকরণ এবং কাঁচ ও বর্জ্য তুলো (raw and waste cotton)। এছাড়া এও জানা যাচ্ছে যে প্রথম প্রান্তিকে দেশের শীর্ষ রপ্তানি গন্তব্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে রপ্তানি ২২.১% বৃদ্ধি পেয়ে ২৫.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে মোট রপ্তানি। এরপর রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, নেদারল্যান্ড, চীন ও মার্কিন যুক্তরাজ্য (UK)।




