Article By – সুনন্দা সেন

ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাজ্য (UK)-এর মধ্যে বহু প্রতিক্ষীত মুক্ত বাণিজ্যি চুক্তি বা ইন্ডিয়া-ইউনাইটেড কিংডম কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট আগামী মাস (মে মাস)-এর দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে কার্যকর হতে পারে বলে জানালো সরকারি সূত্র। এই চুক্তিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলস্টোন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ দিনের আলোচনার পর এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে এবং এখন তা কার্যকর হওয়ার শেষ পর্যায় পৌঁছেছে। আর এ চুক্তি কার্যকর হলে ভারতের রপ্তানি খাতে বড় ধরনের সুবিধা আসতে পারে।
সরকারে তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯৯% ভারতীয় পণ্য ব্রিটিশ মার্কেটে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। ফলে টেক্সটাইল, জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি, লেদার প্রোডাক্ট, ফুটওয়্যার এবং হেন্ড-মেড (হস্তশিল্প)-এর মতো ইন্ডাস্ট্রিগুলি ব্যপকভাবে লাভবান হতে পারে। পাশাপাশি চুক্তির আওতায় ভারতেও ধাপে ধাপে কমানো হবে ব্রিটিশ প্রোডাক্ট বা পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক। বিশেষ করে গাড়ি ও হুইস্কির মতো পণ্যে শুল্ক হ্রাস পাবে। বর্তমানে যেসব পণ্যে উচ্চ শুল্ক রয়েছে, তা ধীরে ধীরে কমানো হলে ভারতীয় বাজারে এই পণ্যের দাম কিছুটা কমাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক মার্কেটে প্রবেশ দৃঢ় করবে এবং বৈদেশিক আয় বাড়বে।
সাথে এই চুক্তি কার্যকর হলে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ বা তারপর থেকে দেশের কিছু ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিযোগীতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সরকারকে স্থানীয় ইন্ডাস্ট্রিকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। দুই দেশই তাদের বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে। এই চুক্তি শুধুমাত্র পণ্যের বাণিজ্য নয়, পরিষেবা খাত, বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।




