Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের চাকরির বাজারে এখন AI দক্ষতা বেতন বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। নতুন এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভারতে AI-সম্পর্কিত চাকরিতে বেতন বছরে ১২% বেড়েছে, যা প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতার তুলনায় সবচেয়ে বেশি। ২০২৪ থেকে ২০২৬-এর মধ্যে AI পেশাদারদের বেতন মোট ২৩% বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব দক্ষ AI কর্মী বাজারে তুলনামূলকভাবে কম, তাঁদের নিয়োগ করতে সংস্থাগুলি বাড়তি বেতন দিতে প্রস্তুত।
০–৩ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা AI পেশাদারদের বার্ষিক বেতন প্রায় ৮.৮৭ লাখ থেকে ১৫.৪১ লাখ টাকা, আর ১৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৭০.৯৯–৮৯.২৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। শুধু AI নয়, সাইবার সিকিউরিটি, সেমিকন্ডাক্টর, ডেটা মাইনিং এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশনেও দক্ষ কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে। ডেলয়েট ইন্ডিয়া (Deloitte India)-র সাম্প্রতিক রিপোর্টও বলছে, AI ও ডেটা-সম্পর্কিত দক্ষতার জন্য ক্যাম্পাস নিয়োগে প্রায় ২০% থেকে ২৫% পর্যন্ত বেতন প্রিমিয়াম দেখা যাচ্ছে।
তবে এই সুযোগের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনও এসেছে, তাই শুধু অভিজ্ঞতা থাকলেই বড় বেতন বৃদ্ধি নিশ্চিত হচ্ছে না। নিয়োগকর্তারা এখন দেখছেন কোনও কর্মীর দক্ষতা তাঁদের ব্যবসার নির্দিষ্ট প্রয়োজন মেটাতে পারছে কি না। ফলে AI, ডেটা, সাইবার সিকিউরিটি ও অন্যান্য ভবিষ্যৎমুখী দক্ষতা শেখা কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি।
অন্যদিকে, IT ও ই-কমার্সের মতো কিছু প্রচলিত ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির গতি অনেকটাই কমেছে বা বেতন কমেছে। যার ফলে ভারতের চাকরির বাজারে স্পষ্ট হচ্ছে নতুন সমীকরণ; ডিগ্রি বা শুধু অভিজ্ঞতার চেয়ে এখন নির্দিষ্ট ও দুর্লভ দক্ষতার বাজারমূল্য বেশি। সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ, আগামী দিনে ভালো বেতন পেতে শুধু চাকরিতে থাকা যথেষ্ট নাও হতে পারে। AI টুল ব্যবহার, ডেটা অ্যানালিটিক্স, মেশিন লার্নিং, সাইবার সিকিউরিটি বা নিজের পেশার সঙ্গে AI-এর ব্যবহার শেখা কর্মজীবনে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।




