Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের চাকরির বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI (Artificial Intelligence)-এর প্রভাব নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতের কর্মসংস্থানের কাঠামো তুলনামূলকভাবে কম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছে গোল্ডম্যান স্যাক্স। সংস্থার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভারতে AI-এর প্রভাব মূলত চাকরির বাজারে তার পরিসংখ্যান শেষ করার বদলে কাজের ধরন ও কর্মীদের ভূমিকা বদলে দেওয়ার সম্ভবানাই বেশি। গোল্ডম্যান স্যাক্সের ‘Gen-AI in India: Jobs Crosswinds, Productivity Tailwinds’ (জেন-AI ইন ইন্ডিয়া: জবস ক্রসউইন্ডস, প্রোডাক্টিভিটি টেইলউইন্ডস)-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারতের কৃষি বহিঃভূত কর্মসংস্থানের প্রায় ৪২% থেকে ৪৮% AI-এর মাধ্যমে আরও দক্ষ বা উৎপাদনশীল হয়ে উঠতে পারে।
এছাড়া প্রায় ৮% থেকে ১২% চাকরি AI-এর কারণে প্রতিস্থাপনের ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থাৎ, AI যতটা চাকরি কেড়ে নিতে পারে, তার তুলনায় অনেক বেশি ক্ষেত্রে এটি কর্মীদের কাজকে সহায়তা করার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঝুঁকি সব পেশায় সমান। যেসব কাজে বারবার একই ধরনের কাজ করতে হয়, তথ্য প্রক্রিয়াকরণ, নথিপত্র তৈরি, ক্লেরিক্যাল সাপোর্ট বা রুটিন কাস্টমার সার্ভিসের মতো ভূমিকা AI-এর কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
গোল্ডম্যানের হিসাব অনুযায়ী, ক্লেরিক্যাল সাপোর্ট এবং কিছু প্রোফেশনাল রোলে কর্মসংস্থানের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়তে পারে। অন্যদিকে, ফিজিক্যাল লেবার, নির্মাণ (construction), টেকনিক্যাল ওয়ার্ক এবং এমন পেশা যেখানে মানুষের সরাসরি উপস্থিতি ও বাস্তব দক্ষতা দরকার; সেগুলিতে AI-এর সরাসরি প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে। গোল্ডম্যান স্যাক্স আরও অনুমান করছে, আগামী এক দশকে জেনেরেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (generative AI) ভারতের লেবার প্রোডাক্টিভিটি বার্ষিক বৃদ্ধিতে প্রায় ০.৪% পয়েন্ট যোগ করতে পারে। পাশাপাশি প্রযুক্তির সক্ষমতা (Technology Capabilities) বেশি হলে এই বৃদ্ধির প্রভাব আরও বড় হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভারতের লেবার মার্কেট পুরোপুরি নিরাপদ।




