Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের পাইকারি মূল্যস্ফীতি বা WPI মূল্যস্ফীতি জুলাই মাসে সামান্য কমে ৯.৭৮%-এ দাঁড়িয়েছে। যেখানে জুন মাসে এই হার ছিল ৯.৮৭%। নতুন ২০২২-২৩-ফাউন্ডেশন ইয়ারের WPI (Wholesale Price Index) সিরিজে জুনের হার ছিল সর্বোচ্চ; আর এই জুলাইয়ে প্রথমবার মাসিক ভিত্তিতে কিছুটা পতন দেখা গেছে। মূলত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে মূল্যবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়াই সামগ্রিক WPI কমার কারণ। আর জুলাইয়ের পরিসংখ্যান মূল্যস্ফীতির চাপ কমায় প্রাথমিক ইঙ্গিত দিলেও, পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি এখনও প্রায় ১০%-এর কাছাকাছি।
জুলাইয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ২০.০৫%-এ, যেখানে জুন মাসে তা ছিল ২৭.৪১%। বিশেষ করে মিনারেল অয়েলের মূল্যস্ফীতি ৪৬.৪৮% থেকে ৩২.৪% হয়েছে। আর অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যস্ফীতিও ৩৪.৭৫% থেকে কমে ২৬.৯৯%-এ নেমে এসেছে। তবে ছবিটা পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। প্রাথমিক পণ্যের মূল্যস্ফীতি ৭.৪৮% থেকে বেড়ে ৮.২৯% হয়েছে। অর্থাৎ জ্বালানি চাপ কিছুটা কমলেও উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার অন্য অংশে মূল্যচাপ এখনও রয়েছে।
খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রেও চাপ বজায় রয়েছে। জুলাই মাসে WPI ফুড ইনডেক্সের মূল্যস্ফীতি ৬.৬৫% হয়েছে, যা জুন মাসের ৬.১৪%-এর তুলনায় বেশি। প্রাথমিক খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি অবশ্য সামান্য কমে ৫.৪৪% হয়েছে। অন্যদিকে নন-ফুড সামগ্রি (Non-Food articles)-এর মূল্যস্ফীতি ১১.০৭ থেকে বেড়ে ১৭.৬৬%-এ পৌঁছেছে। এমন অবস্থায় আগামী মাসগুলিতে জ্বালানি, খাদ্য ও উৎপাদন খাতের দাম কোন দিকে যায়, সেটিই হবে ভারতের মূল্যস্ফীতির পরবর্তী পর্যায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, জুলাইয়ে ভারতের খুচরো মূল্যস্ফীতি ৪.৪৫%-ে উঠে এসেছে, যা জুনের ৪.৩৮%-এর তুলনায় বেশি। যার ফলে পাইকারি বাজারে কিছুটা স্বস্তি এলেও সাধারণ মানুষের খরচের উপর খাদ্যপণ্যে দামের চাপ এখনও নজরে রাখার মতো। আর বিশেষজ্ঞদের নজরে এখন থাকবে জ্বালানির দামের পরবর্তী গতিপথ। কারণ জ্বালানি খাতে মূল্যচাপ কমলে পাইকারি মূল্যস্ফীতিতে আরও স্বস্তি আসতে পারে; কিন্তু খাদ্য, মেটাল, রাসায়নিক ও অন্যান্য উৎপাদন খাতে খরচ বাড়তে থাকলে সেই স্বস্তি সীমিত হতে পারে।




