Article By – সুনন্দা সেন

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৫ এর আগে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুসারে, গত ছয় বছরে (২০১৭-১৮ থেকে ২০২৩-২৪) ভারতের শহুরে বা আরবান এলাকায় মহিলা কর্মসংস্থানের হার ১০% বৃদ্ধি পেয়েছে। চেন্নাইয়ের গ্রেট লেকস ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট কর্তৃক প্রকাশিত হোয়াইট পেপারে দেখা গেছে যে সকল দশকের শহুরে ভারতের মহিলাদের মধ্যে চল্লিশের দশকের শহুরে মহিলাদের কর্মসংস্থানের হার সবচেয়ে বেশি, তবে ২০২৩-২৪ সালে তার থেকেও ৩৮.৩% ছিলো। এটি শিক্ষিত নারীদের দক্ষতার স্কিলস ব্যবহার এবং বৈচিত্র্যের প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি সহ গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলির বিষয়েও সতর্ক করে দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩-২৪ সালে ৮ কোটি ৯০ লক্ষেরও বেশি শহুরে ভারতীয় মহিলা এখনও শ্রমবাজারের বাইরে রয়েছেন। যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব, নমনীয় কাজের ব্যবস্থার অভাব এবং যাতায়াতের চ্যালেঞ্জের মতো কারণগুলি অনেক উচ্চ যোগ্য মহিলাকে অর্থনীতিতে সম্পূর্ণরূপে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রেখেছে। অধিকন্তু, উদ্বেগজনক প্রবণতায় শহরাঞ্চলে তরুণ পুরুষদের বেকারত্ব মহিলাদের বেকারত্বের হারকে ছাড়িয়ে গেছে (২০-২৪ বছর বয়সী মহিলাদের জন্য ১০% বনাম ৭.৫%)। এই গবেষণায় উচ্চ শিক্ষিত পরিবারগুলিতেও লিঙ্গ বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি দ্বৈত আয়ের, উচ্চ শিক্ষিত দম্পতিদের মধ্যেও লিঙ্গ বৈষম্য প্রকট।
শহরাঞ্চলের মায়েদের জন্য, যাদের দূরবর্তী স্থানে কাজ করার সুযোগ রয়েছে, তাদের জন্য ভারসাম্য বজায় রাখা এখনও কঠিন। ৮৬% জানিয়েছেন যে তারা কাজের সময় তিন কর্মদিবস পর্যন্ত শিশু যত্নের জন্য ব্যয় করেন। আর মাত্র ৪৪% মনে করেন যে তাদের পর্যাপ্ত সহায়তা রয়েছে। অর্থনীতির অধ্যাপক এবং গ্রেট লেকস ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টের পরিচালক ডঃ বিদ্যা মাহাম্বারে বলেছেন, “যদিও শহুরে ভারতে নারীদের কর্মশক্তির অংশগ্রহণ বাড়ছে। তবুও এটি এখনও আয়, কর্মজীবন বৃদ্ধি এবং ঘরোয়া দায়িত্বের ক্ষেত্রে প্রকৃত লিঙ্গ সমতায় রূপান্তরিত হচ্ছে না। প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে, প্রথমে আমাদের সকলের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রয়োজন।“




