Article By – সুনন্দা সেন

সরকারি তথ্য অনুসারে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US) ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে রয়েছে। গত অর্থবছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩১.৮৪ বিলিয়ন ডলার। তবে চীনের সাথে দ্বন্দ্ব এবং বেশকিছু পণ্যের উপর বিধিনিষেধ থাকায় একই সময়ে বেইজিংয়ের সাথে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ১৭% বেড়ে ৯৯.২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হল ২০২৪-২৫-এ চীনে ভারতের রপ্তানি ১৪.৫% কমে ১৪.২৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে একই সময় আমদানি ১১.৫২% বেড়ে ১১৩.৪৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩-২৪ সালের ১১৮.৪ বিলিয়ন ডলারের দ্বি-মুখী বাণিজ্যের তুলনায় ২০২৪-২৫ সালে চীন ১২৭.৭ বিলিয়ন ডলারের সাথে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসাবে রয়ে গেছে।
আর এই রেকর্ড দেখা গেছে ট্রাম্পের পারস্পরিক শুল্ক আরোপের আগে। এখন উদ্বেগ রয়েছে যে চীনা সংস্থাগুলি উচ্চ শুল্কের কারণে ভারত এবং অন্যান্য বাজারে পণ্য ডাম্পিং করতে পারে। যা সম্ভাব্য ভাবে বাণিজ্য ঘাটতি আরও প্রসারিত করবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ এং ২০২০-২১ সালেও চীন ভারতের শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল। যেখানে US ২০২১-২২ থেকে বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল দেশের। অবশ্য চীনের আগে UAE ছিল ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। আবার গত অর্থবছরে ১০০.৫ বিলিয়ন ডলার সহ সংযুক্ত আরব আমিরাত ছিল ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার।
আমেরিকার সাথে বাণিজ্য উদ্ধৃত গত অর্থবছরে ৪১.১৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যা ২০২৩-২৪ সালে ৩৫.৩২ বিলিয়ন ডলার ছিল। এই বৃদ্ধির কারণ হল, গত অর্থবছরে US-এ ভারতের রপ্তানি ১১.৬% বেড় ৮৬.৫১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যেখানে আমদানি ৭.৪৪% বৃদ্ধির সাথে ৪৫.৩৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে US-এ ভারতে প্রধান রপ্তানির মধ্যে ছিল ওষুধের ফর্মুলেশন, টেলিকম ইনস্ট্রুমেন্টস, মূল্যবান পাথর, পেট্রোলিয়াম পণ্য, ধাতব গয়না,সুতির কাপড়, আনুষাঙ্গিক এবং লোহা ও স্টিলের পণ্য। আর আমদানির মধ্যে ছিল ক্রড ওয়েল, পেট্রোলিয়াম পণ্য, কয়লা, কোক, পলিশ ডায়মন্ড, বৈদ্যুতিক ইনস্ট্রুমেন্ট, এয়ারক্রাফ্ট, স্পেসক্রাফ্ট এবং গোল্ড।




