Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্ববাজারে আবারও ফিরে এসেছে ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারের অপরিশোধিত তেলের আশঙ্কা। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাক্স (Goldman Sachs) সতর্ক করার সাথে জানিয়েছে, যদি হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে তেল সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকে, সেক্ষেত্রে ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ব্রেন্ট ক্রডের দাম ১২০ ডলারেরও বেশি হতে পারে। যদিও এটি তাদের মূল পূর্বাভাস নয়, তবুও ঝুঁকিটিকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ভারতের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশটি তার মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০% বা তার বেশি আমদানি করে, যার বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেই ভারতের আমদানি বিল দ্রুত বেড়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম প্রতি ব্যরেলে ১ ডলার বাড়লে ভারতের বার্ষিক আমদানি ব্যয় প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। আর এই উচ্চ তেলের দাম শুধু আমদানি বিলই বাড়ায় না, এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মুদ্রাস্ফীতি, চলতি হিসাবের ঘাটতি (Current Account Deficit), রুপির বিনিময় মূল্য এবং সরকারের ভর্তুকির ব্যয়ের উপর।
পাশাপাশি পরিবহন, বিমান পরিষেবা, রাসায়নিক, সিমেন্ট ও উৎপাদন শিল্পের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কর্পোরেট মুনাফার ওপরও চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার জেরে ব্রেন্ট ক্রডের দাম ৯০ ডলারের আশেপাশে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় রুপিও দুর্বল হয়েছে এবং শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে। তবে ভারত ঝুঁকি কমাতে রাশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলি থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো যায়।




