Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যখনই বৃদ্ধি পায়, তখনই ভারতের অর্থনীতির ওপর চাপ বেড়ে যায়। কারণ দেশের মোট অপরিশোধিত তেলের চাহিদা প্রায় ৮৫% আমদানির ওপর নির্ভরশীল। অথচ গত এক দশকে দেশীয় তেল অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আবারও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ভারতে বহু সম্ভাবনাময় অনশোর ও অফশোর অয়েলফিল্ড থাকা সত্ত্বেও অনুসন্ধান কার্যক্রমের গতি দীর্ঘদিন ধরে স্লো। নতুন ব্লকে বিনিয়োগ, দ্রুত অনুমোদন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বেসরকারি সংস্থার অংশগ্রহণ নানা কারণে গতি কম ছিল। এর ফলে নতুন বড় অয়েল ডিসকোভারের সংখ্যা খুবই সীমিত থেকেছে।
অন্যদিকে দেশের জ্বালানি চাহিদা প্রতি বছরই বাড়ছে। শিল্প, পরিবহণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো খাতগুলিতে তেলের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে আমদানির বিলও বাড়ছে। আর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সেই প্রভাব পড়ছে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, এমনকি টাকার বিনিময় মূল্যেও। বিশেষজ্ঞদের মতে, গত এক দশকে যদি আরও আক্রমনাত্মকভাবে অনুসন্ধান ও উৎপাদনে জোর দেওয়া হত, তাহলে আজ ভারতের আমদানি নির্ভরতা কিছুটা হলেও কমানো যেত। যদিও সরকার ওপেন অ্যাক্রোজ লাইসেন্সিং, নীতিগত সংস্কার এবং নতুন অনুসন্ধান নিলামের মতো একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু তার বাস্তব ফলাফল এখনও সীমিত।
এখণ প্রশ্ন হচ্ছে, ভবিষ্যতে কী হবে? বিশ্লেষকদের মতে, শুধু রেনাওয়েবেল এনার্জির ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। আগামী বহু বছর পর্যন্ত তেল ভারতের জ্বালানি ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়েই থাকবে। তাই দেশীয় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে বড় বিনিয়োগ, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া জরুরি। এছাড়া বিশ্বে যখন জ্বালানি নিরাপত্তা এখন কৌশলগত ইস্যু হয়ে উঠেছে, তখন ভারতের জন্যও নিজস্ব তেল উৎপাদন বাড়ানো শুধু অর্থনৈতিক নয়, জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী দিনে দেশ কতটা দ্রুত পদক্ষেপ দিতে পারে, সেটাই এখন নজরে রাখছেন অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। একদিকে ভারতের তেল উৎপাদন স্থবির থাকায় আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা আন্তর্জাতিক তেলের দামের ওঠানামার প্রতি দেশকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে। এর ফলে আমদানি ব্যয়, চলতি হিসাবের ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি, রুপির ওপর চাপ এবং সরকারি আর্থিক ভারসাম্যে প্রভাব পড়তে পারে। অন্যদিকে দেশীয় অয়েল রিসার্চ ও উৎপাদনে গতি এলে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে, দীর্ঘমেয়াদে আমদানি বিল কমতে পারে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।




