Article By – সুনন্দা সেন

চীনের চিপ উৎপাদনে বড় অগ্রগতির খবর সামনে আসতেই বাজারে চাপের মুখে পড়েছে ভারতের একাধিক সেমিকন্ডাক্টর সংক্রান্ত শেয়ার। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ; এমন অবস্থায় প্রশ্ন হল বিশ্বের চিপ ইন্ডাস্ট্রিতে প্রতিযোগিতা কী আরও তীব্র হতে চলেছে? আসলে সাম্প্রতিক বাজারে দেখা গেছে, চীনের একটি বড় চিপ নির্মাতা সংস্থা উন্নত চিপ উৎপাদনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এনেছে। এর ফলে ধারণা তৈরি হয়েছে যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন নিজস্ব প্রযুক্তি ও উৎপাদন ক্যাপাসিটি দ্রুত বাড়িয়ে তুলেছে।
এই খবর প্রকাশের পর ভারতীয় শেয়ারবাজারে সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত একাধিক সংস্থার শেয়ারে বিক্রির চাপ দেখা যায়। কারণ বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা যে যদি চীন কম খরচে এবং বড় পরিসরে উন্নত চিপ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন মূলত স্বল্পমেয়াদি সম্ভবনা এখনও শক্তিশালী কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন বাড়াতে বিপুল ইনসেনটিভ ঘোষণা করেছে এবং দেশীয় উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে চলেছে।
এছাড়া, ভারতের লক্ষ্য শুধু চিপ তৈরি নয়; বরং সম্পূর্ণ সেমিকন্টাক্টর ভ্যালু চেইন-ডিজাইন, অ্যাসেম্বলি, টেস্টিং এবং প্যাকেজিং গড়ে তোলা। এই খাতে দেশীয় ও বিদেশী বিনিয়োগও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করছেন, বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইন বৈচিত্র্যময় করার প্রবণতার কারণে বহু আন্তর্জাতিক কোম্পানি এখনও ভারতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। ফলে চীনের অগ্রগতি ভারতের জন্য প্রতিযোগিতা বাড়ালেও, তা ভারতের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নষ্ট করে দিচ্ছে না।
চীনের চিপ উৎপাদন প্রযুক্তিতে অগ্রগতি ভারতের সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে এবং ভারতীয় সেমিকন্ডাক্টর সংক্রান্ত কোম্পানিগুলির উপর স্বল্পমেয়াদে চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভারতের জন্য গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন আরও দ্রুত করার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রতিযোগিতা ভারতীয় ইন্ডাস্ট্রিকে আরও দক্ষ ও বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।




