buzywithinfoBuzy With Info
Everything About Business
trade

চিনের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়লেও ভারতের লাভ অদৃশ্য! শি জিনপিংয়ের দিল্লি সফরে উঠছে আমদানি-রপ্তানি নিয়ে প্রশ্ন

Article By – সুনন্দা সেন

Untitled design 2024 08 09T113155.925

চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাত বছর পর ভারত সফরে এসেছেন। ১২–১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে BRICS সম্মেলনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠকও হচ্ছে। ফলে সীমান্তের পাশাপাশি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে বাণিজ্য ঘাটতি, বিনিয়োগ এবং বাজারে প্রবেশাধিকার আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। আর এখানেই উঠে আসছে বড় একটি সংখ্যা। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারত চিন থেকে প্রায় ১৩১.৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। বিপরীতে চিনে ভারতের রফতানি ছিল মাত্র ১৯.৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুই দেশের মধ্যে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১১২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি

11

ভারতের চিন থেকে আমদানির বড় অংশই শিল্প ও উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত (যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স, কম্পিউটার, টেলিকম সরঞ্জামের যন্ত্রাংশ, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি এবং সার)। অন্যদিকে ভারতের চিনে রফতানিতে রয়েছে লোহা আকরিক, কিছু রাসায়নিক ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য, চিংড়ি এবং ক্যাস্টর অয়েলের মতো পণ্য। অর্থাৎ বাণিজ্যের পরিমাণ বড় হলেও দুই দেশের পণ্যের কাঠামোতে যথেষ্ট অসমতা রয়েছে। তবে ছবির অন্য দিকও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চিনের মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছে। সংবাদ মাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে মোট বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৫১ বিলিয়ন ডলার বলা হয়েছে। অর্থাৎ রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়িক নির্ভরতা পুরোপুরি কমেনি।

এখন ভারতের সামনে বড় প্রশ্ন; চিন থেকে আমদানি কমানো, নাকি সেই আমদানির পাশাপাশি ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য চিনের বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা? কারণ শুধু আমদানি কমালেই হবে না; ভারতের রফতানি বাড়ানোও জরুরি। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল চিনা বিনিয়োগ। রাজনৈতিক সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পরও ভারতে চিনা বিনিয়োগ এখনও তুলনামূলকভাবে সীমিত। সাম্প্রতিক আলোচনায় ইলেকট্রনিক্স, সৌরশক্তি, সাপ্লাই চেন এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মতো ক্ষেত্র সামনে এসেছে। তবে নিরাপত্তা ও কৌশলগত উদ্বেগের কারণে ভারত এখনও সংবেদনশীল ক্ষেত্রে চিনা অংশগ্রহণ নিয়ে সতর্ক।

সেই কারণে শি জিনপিং-এর এই সফর শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য নয়, ভারত-চিনের ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্পর্কের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারত চাইছে চিনের বাজারে আরও বেশি প্রবেশাধিকার এবং বিনিয়োগ; অন্যদিকে বাণিজ্য ঘাটতি ও অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতা কমানোও দিল্লির বড় লক্ষ্য। এদিকে ভারত-চিন বাণিজ্য যত বড় হচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে ভারতের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ শুধু বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানো নয়, বরং বাণিজ্যের ভারসাম্য ঠিক করা। সি ও মোদি (Xi-Modi) বৈঠকে সেই অসম সম্পর্ক কতটা বদলানোর পথ তৈরি হয়, এখন সেদিকেই নজর ব্যবসায়ী মহলের।

BWI 600 x 200

Leave a Reply

Discover more from Buzy With Info

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading