Article By – সুনন্দা সেন

রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের তেল-বাণিজ্যকে ঘিরে ফের বড় চাপ তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে তৈরি মার্কিন লিন্ডসে ও. গ্রাহাম রাশিয়া ও ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা আইন (Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act)-এ এমন একটি ধারা রয়েছে, যার মাধ্যমে রাশিয়ার বড় জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলির পণ্যের উপর ১০০% পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হতে পারে। মার্কিন সেনেটে বিলটি গত মাসে ৮৬-১১ ভোটে পাস হয়েছে। এরপর হাউস পর্যায়ে বিলটি নিয়ে একাধিক সংশোধনী প্রস্তাব আসে। তার মধ্যে একটি প্রস্তাবে ভারত, চিনসহ রাশিয়ার বড় বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলির নাম সরাসরি আইনে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল।
অন্য একটি প্রস্তাবে আবার ১০০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া পুরো ধারাটিই বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়। কিন্তু সর্বশেষ পরিস্থিতিতে এই দুই ধরনের সংশোধনীই এগোয়নি। ফলে ভারতের নাম সরাসরি আইনে লেখা না থাকলেও, রাশিয়ার বড় তেল ও গ্যাস ক্রেতা হিসেবে ভারত এখনও সম্ভাব্য শুল্ক-ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ১০০% শুল্ক মানেই ভারতীয় পণ্যের উপর এখনই ১০০% শুল্ক (tariff) বসছে না। এটি সর্বোচ্চ সীমা। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে মার্কিন প্রশাসন সেই ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারবে।
অর্থাৎ, এখনই ভারতীয় রপ্তানিকারকদের উপর ১০০% শুল্ক কার্যকর হয়েছে, এমনটা বলা ঠিক হবে না। ভারতের জন্য ঝুঁকির মূল কারণ রাশিয়া থেকে সস্তা অপরিশোধিত তেল কেনা। ভারত বারবার জানিয়েছে, দেশের বিপুল জ্বালানি চাহিদা এবং শক্তি নিরাপত্তা (energy security)-এর কথা মাথায় রেখেই রাশিয়া থেকে তেল কেনা হচ্ছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের যুক্তি হল রাশিয়ার তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থায়নে সাহায্য করছে।
ব্যবসায়িক প্রভাবের দিক থেকে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা রপ্তানি খাতে। যদি ভবিষ্যতে ভারতের পণ্যে অতিরিক্ত মার্কিন শুল্ক বসে, তাহলে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, রাসায়নিক, ওষুধসহ বিভিন্ন রপ্তানি খাত প্রতিযোগিতামূলক চাপের মুখে পড়তে পারে। এর পাশাপাশি ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক এবং ডলার-রুপির বাজারেও অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। রপ্তানিকারক সংস্থাগুলি নতুন করে বাজার এবং সাপ্লাই চেইন স্ট্রেটিজি (supply chain strategy) বদলানোর কথা ভাবতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হল; ঝুঁকি এখনই বাস্তব শুল্কে পরিণত হয়নি, কিন্তু সম্ভাব্য ১০০% শুল্কের চাপ এখনও পুরোপুরি কাটেনি।




