Article By – সুনন্দা সেন

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য আরও বাড়াতে এবার ভারতীয় রপ্তানিকারকদের সঙ্গে মার্কিন ক্রেতাদের সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। ভারত সরকার ও আমেরিকা ইতিমধ্যেই ‘মিশন ৫০০’-এর মাধ্যমে বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানো, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানো এবং সাপ্লাই চেন আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে। সম্প্রতি ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক রপ্তানিকারক এবং শিল্প সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করে মার্কিন বাজারে প্রবেশের সমস্যা, অর্ডারের পরিমাণ এবং শুল্ক-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছে।
রপ্তানিকারকদের একাংশ জানিয়েছেন, আমেরিকা থেকে অর্ডার থাকলেও অর্ডারের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। তাই মার্কিন ক্রেতাদের সঙ্গে ভারতীয় সংস্থাগুলির সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের বড় সুবিধা হতে পারে ভারতীয় পণ্যের জন্য নতুন ক্রেতা তৈরি করা। বিশেষ করে টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, অটো কম্পোনেন্ট, জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি এবং অন্যান্য উৎপাদন খাতের সংস্থাগুলি মার্কিন বাজারে আরও বেশি অর্ডার পাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
ভারতের সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যানেও রপ্তানির ক্ষেত্রে ইতিবাচক গতি দেখা যাচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথম পাঁচ মাসে ভারতের পণ্য রপ্তানি ১৫%-এরও বেশি বেড়েছে বলে বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। তবে সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আর ভারত চাইছে আমেরিকার সঙ্গে যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে, তাতে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় শুল্কের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সুবিধা পান। কারণ শুল্ক বেশি থাকলে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং ক্রেতারা অন্য দেশের পণ্যের দিকে চলে যেতে পারেন।
ভারত যদি মার্কিন বাজারে রপ্তানি বাড়াতে পারে, তাহলে উৎপাদন, লজিস্টিকস, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং, অটো কম্পোনেন্ট এবং ইলেকট্রনিক্সের মতো শিল্পে ব্যবসার সুযোগ ও কর্মসংস্থান বাড়তে পারে। একই সঙ্গে বিদেশি মুদ্রা আয় বাড়লে দেশের অর্থনীতিও উপকৃত হবে। তবে শুল্কনীতি ও ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত রপ্তানিকারকদের সামনে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকবেই। শেষ পর্যন্ত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য পূরণ করতে শুধু নতুন ক্রেতা নয়, প্রতিযোগিতামূলক দাম, স্থিতিশীল শুল্কনীতি এবং শক্তিশালী সাপ্লাই চেন; গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।




